
ক্যালেন্ডারের পাতা দুইটা বছর পিছিয়ে নেন, দেখবেন আমর আসবাই বলছি, “বাংলাদেশের পেস বোলিং অ্যাটাকের লিডার তাসকিন আহমেদ”
তখন তাসকিন সিনিয়র মোস্ট বোলার, ফর্মটাও বেশ ভালো; তাসকিনের ব্যাচমেট মুস্তাফিজুরের ফর্ম তখন খুব একটা ভালো না, জাস্ট একাদশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মত খেকে যাচ্ছিলেন। আর মুস্তাফিজুর একটু চুপচাপ থাকতে চায় বা ক্যামেরা শাই বিধায় তাসকিনকেই মিডিয়া লিডার হিসেবে পরিচয় করাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। এটা কোনো সমস্যা না, কারণ তাসকিনের পারফরম্যান্স তখন লিডার-সুলভই ছিলো। শরীফুলরাও তখন ভালো করছিলেন, তবে শরীফুল-সাকিবরা তো নতুন পেসার। লিডার তাই তাসকিনই।
সেই তাসকিন কি এখনো লিডার? লিডার তো দূর কি বাত, তাসকিনকে এখন সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না। একাদশে ঘাকলেও সেই প্রেজেন্সটা বুঝা যাচ্ছে না। এই জিনিসটা মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে ২০২১/২২ এর দিকে নন-স্লোয়িশ উইকেটে মনে হতো৷ সেই মুস্তাফিজুর গত ২-৩ বছরে নিজেকে এমন ড্রাস্টিকালি চেঞ্জ করেছেন যে এখন মুস্তাফিজ চট্টগ্রামের পিচে ফাইফার পান। মুস্তাফিজের অফ ফর্ম থাকলেও তার মাঝে এক্স ফ্যাক্টর অলওয়েজ ছিলো। এখন বাংলাদেশ আরেকজন এক্স ফ্যাক্টরওয়ালা পেসার পেয়েছেন, তিনি নাহিদ রানা। সাথে শরীফুল ভালো করছেন, যদিও শরীফুলের মাঝে তেমন এক্স ফ্যাক্টর নেই, তবে শরীফুল বাঁহাতি বিধায় একটা এডভান্টেজ তো পান নতুন বলে। এদিকে তানজিম সাকিব আছেন, রিপন সাকলাইনরা উঠে আসছেন। আই এফ্রেইড, তাসকিন এই পেইস বোলিং এটাকে টিকে থাকতে পারেন কিনা!

যে তাসকিনকে লিডার বলা হচ্ছিলো সেই তাসকিন অনায়েসে ১৪০+ তুলতো, এখনের তাসকিন ১৩৫ এই সীমাবদ্ধ। তাসকিন নিজেও জানেন, তিনি গতিনির্ভর পেসার, তাই এই খামতিটা ২০২৬ এর তাসকিনকে ভোগাচ্ছে৷ তাসকিনের বোলিংয়ে আলাদা এক্স ফ্যাক্টর ওই গতিটাই ছিলো। এখন ফিটনেসের অবস্থা খুব একটা ভালো না হওয়ায় গতিটা কমে আসছে।

আমার আশঙ্কা সত্যি না হোক, তাসকিন টিকে থাকুক। ফিটনেসের উন্নতি করলেই আশা করি তাসকিন রিদম ফিরে পাবেন। এখন তাসকিন যে রিদমে আছেন, এই রিদমে থাকলে এই এটাকে তাসকিনের জায়গা নাও হতে পারে, অথচ এই তাসকিনই আমাদের পেস বোলিং বিপ্লবের পথিকৃৎ!
