
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ, ফিফা বিশ্বকাপ — এগুলোর ভিড়ে বলতে ভুলে গেছি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই দলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক — নাহিদ রানা, তাসকিন, শরীফুলরা বিশ্রামে, সাথে বিশ্রামে মিরাজও। এই সিরিজে মূল পেসারদের বিশ্রামে দিয়ে এই সিরিজে খালেদ, ইবাদত, হাসান মাহমুদ আর নবাগত পেসার রবিউল হক। ব্যাটিংয়ে ডাক পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।
তাওহীদ হৃদয় যদিও টেস্ট দলে আগে ডাক পেয়েছেন। তবে এবার প্রথমবারের মত ডাক পেলেন রবিউল হক। কে এই রবিউল? রবিউল অ-১৯ ক্রিকেট খেলেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপে, যে ব্যাচের নাঈম শেখ, আফিফ, হাসান মাহমুদ, সাইফ হাসানরা এখন জাতীয় দলের সদস্য৷ রংপুর বিভাগের এই পেসার ফার্স্ট ক্লাস রেকর্ড খুবই ভালো, ৩২ ম্যাচের ৫৭ ইনিংসে ১০৭ উইকেট নিয়েছেন রবিউল, গড় মাত্র ২০.৯। ব্যাট হাতেও লোয়ার অর্ডারে গড় ২০.৭৫, ফিফটি আছে ২টি।
গত এনসিএলে ৯ ইনিংসে ২২ উইকেট নিয়ে রংপুরকে শিরোপা জেতাতে অবদান রেখেছেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন তারা একজন নতুন অল-রাউন্ডার দেখতে চান, তাই এই কল। নির্বাচকদের এই কলটাকে সাহসী বলতেই হয়, জিম্বাবুয়ে সিরিজে পেসারদের বিশ্রাম দিয়ে নতুন এক পেসারকে নেওয়া ইতিবাচক। বাদবাকি ৩ পেসার — হাসান, খালেদ, এবাদত যে আমাদের বি টিমের পেসার, তা না, বরং হাসান আমাদের সেরা টেস্ট পেসার, ইঞ্জুরির পর তার রিদমের দরকার আছে (আজকে অবশ্য তার কাউন্টি অভিষেক হবে), খালেদ ইবাদতের রিদমের দরকার আছে।
তবে রবিউল এত তাড়াতাড়ি জাতীয় দলে ডাক পাবেন ভাবিনি। পেসার হিসেবে এনসিএলে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের ট্র্যাক রেকর্ড আরো দুর্দান্ত! আর পেস বোলিং অল রাউন্ডার হিসেবে আবু হায়দার রনি লাস্ট সিজনে খুবই ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। তবে রনি, মুগ্ধ বা রবিউল — ফার্স্ট ক্লাসে পারফরম্যান্সের জন্য যে কেউ ডাক পেতে পারেন, এটা ভাবিইনি। এই নির্বাচক প্যানেল যেহেতু ডমেস্টিক গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন, আশা করি যোগ্য হলে মুগ্ধ, রনিদেরও সময় আসবে।
ওভারল এই টেস্ট টিমটা আমার খুবই ভালো লেগেছে, এট বেস্ট লিটনকে বিশ্রাম দেওয়া যেত, যেহেতু তিন ফরম্যাট খেলেন তিনি। মিরাজকে বিশ্রাম দিয়েছে নাঈমকে সুযোগ দেওয়ার জন্য, এটা ভালো কল। অনেকেই হাসান মুরাদকে মিস করছেন, তাইজুল বিশ্রাম পেতে পারতেন ভাবছেন। তবে আমি আগেও বলেছি, মুশফিক-মুমিনুল-তাইজুল এরা এখন একটা ফরম্যাটেই খেলেন, এদের বিশ্রাম দেওয়া মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা থেকে দূরে রাখা, এটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কঠিন কাজ। স্টিল, বাংলাদেশ এক্সপেরিমেন্টাল স্কোয়াড হিসেবে আমার চোখে দারুণ এক স্কোয়াড দিয়েছে, স্পেশালি পেসারদের বিশ্রাম দেওয়াটা মাস্টারস্ট্রোক ছিল।
