
আগের দিনে মোস্তাফিজের ওই ম্যাজিক বোলিং দেখার স্মৃতি নিয়ে আমি কলকাতার একটা হাসপাতালের দিকে যাচ্ছি। আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা পরীক্ষা করার জন্য – ক্যান্সার নির্ণায়ক পরীক্ষা।
এই সময়টায় আমার একটা ২৪শে এপ্রিলের কথা খুব মনে পড়তেছে। ২০১৫ সালের ২৪শে এপ্রিল; মোস্তাফিজুর রহমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক।
তখনও পর্যন্ত আমরা যারা রেগুলার মাঠে যাই, আমরাও মোস্তাফিজুর রহমান সম্পর্কে খুব ভালো কিছু জানি না। হ্যাঁ, একটা আন্ডার-১৯ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলছে, সেই ওয়ার্ল্ড কাপে মোটামুটি ভালো করছে। মূলত আমরা জানি যে সৌম্য-লিটনদের ব্যাচমেট, একটা সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা একটা ছেলে।
কাটার করতে পারে। কাটার করাটা বাংলাদেশী বোলারদের জন্য খুব নতুন কিছু না। মাশরাফি বিন মুর্তজা তার ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় কাটার দিয়েই সাফল্যগুলো পেয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে কাটার করা বোলার একেবারে কম না।
কিন্তু নেটে তাকে দেখে আমাদের কোচেরা, নির্বাচকরা, সাংবাদিকরা; সবাই খুব ইমপ্রেসড। আপনারা জানেন আমি চিরকালের ফাঁকিবাজ রিপোর্টার, ফলে নেট এটেন্ড খুব কম করতাম। মোস্তাফিজের অভিষেকের আগ পর্যন্ত একটা বলও আমার দেখা হয়নি।
আমার সহকর্মীরা তো ফাঁকিবাজ না, তারা নেটে দেখছে। তারা এক্সাইটেড। তারা বলছে, এই লিকলিকে ছেলেটা, দেখলে মনে হয় ফুঁ দিলেই উড়ে যাবে, এই ছেলেটার কিন্তু ভিতরে জিনিস আছে। দুর্দান্ত কাটার করতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা একই অ্যাকশনে সে ১৩৭-১৩৮ মারছে, আবার ১১৫ মারছে। ওই যখন একই গ্রিপচ, একই অ্যাকশনে সে ১১৫ মারে তখন নাকি কাটার হয়ে আনপ্লেয়েবল হয়ে যায়।
এত কিছু বুঝিও না, দেখিও নাই, ফলে আমার কাছে ব্যাপারটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ মনেই হয়নি।
শহীদ আফ্রিদি তখন ক্যাপ্টেন। শহীদ আফ্রিদি খুব বড় বড় কথা বলছিলেন। সাধারণত বাংলাদেশে আসলে ভারত-পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেনরা যে ধরণের বড় কথা বলে থাকেন আরকি- বাংলাদেশকে গুড়ায়ে দিবে।
আমার তখন জীবনের ঘনিষ্ঠতম মানুষটা, সহকর্মী রিপোর্টার, সে এসে আমার ঘাড়ে হাত দিয়ে বললো- কিছুই তো বিশ্বাস করেন না, দেখেন একটা ভবিষ্যৎবাণী করি – এই মোস্তাফিজ ছেলেটা আপনার আফ্রিদির উইকেট দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করবে।
খেলা শুরু হলো, একটু পরে দেখি আফ্রিদি নাই। মোস্তাফিজের প্রথম উইকেট। শুরু হলো মোস্তাফিজের পথচলা।
মুস্তাফিজ ড্রামার এই পাইলট পর্বটা অনেকেই ভুলে যান। সবাই মোস্তাফিজের শুরুটা ভাবেন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ওই পরপর দুই ম্যাচে ৫ আর ৬ উইকেট ওইটা দিয়ে। কিন্তু ড্রামাটা শুরু হয়েছিল আজকের দিনটায় পাকিস্তানের বিপক্ষে আফ্রিদির সেই উইকেটটা নিয়ে।
ওই কাটারটা দিয়ে সে বুঝায়ে দিছিল যে সে কি করতে আসছে। এরপর তো মোস্তা নেভার কামব্যাক এটা যেমন শুনতে হয়েছে, সেরকম এটাও শুনতে হয়েছে যে মোস্তা প্রোবাবলি অল টাইম গ্রেট হোয়াইট বল বোলারদের একজন।
মোস্তা, আপনার ঝুলি তে তো অনেক ম্যাজিক। আমারে একটু ম্যাজিক করে দিয়েন। আপনার প্রার্থনা থাকলে হয়তো, এ যাত্রা কাটার করে বেরিয়ে যেতে পারি।
দেবব্রত মুখার্জি
