
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দল এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে যাবে। একমাত্র টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
এই সিরিজের দলে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে টেস্ট দলের একাধিক ক্রিকেটারকে। তাসকিন আহমেদ-নাহিদ রানা-শরিফুলদের সঙ্গে নেই মেহেদী হাসান মিরাজও।
তবে চমক হিসেবে আছেন সাদা বলে নিয়মিত খেলা তাওহীদ হৃদয় ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার রবিউল হক। ফেরানো হয়েছে হাসান মাহমুদকেও।
দল ঘোষণায় সবচেয়ে বড় চমক বলা যায় টেস্ট দলে তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও পেসার রবিউল হকের অন্তর্ভুক্তিকে। যদিও তাওহীদের এই সুযোগ প্রথমবার নয়।
২০২৪ সালের শ্রীলঙ্কা সিরিজে টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলেন তাওহীদ। যদিও সেবার খেলা হয়নি তার। এবার হয়তো অভিষেক হয়ে যেতে পারে লাল বলের ক্রিকেটে।
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাওহীদের। ২৩ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ সেঞ্চুরি তাওহীদের রান ৯৮৩। তাওহীদের তাওহীদের এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে নিয়ে আশাবাদী প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
দল ঘোষণার পর তাওহীদকে নিয়ে হাবিবুল বলেছেন, ‘তৌহিদ হৃদয়কে আমরা মূলত সাদা বলের ক্রিকেটেই নিয়মিত দেখে থাকি। তবে আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটেও, সেখানে সে ভালো বিকল্প হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে ভিন্ন ধরনের মানসিকতা নিয়ে খেলছি, আর আমার বিশ্বাস হৃদয় সেই ধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম। আমি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অনেক দেখেছি। সেখানে তার রেকর্ডও খারাপ নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যখন ব্যাটিং করে, তখন নিজের অবস্থান থেকে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ইনিংস খেলে দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দেয়।’
হাবিবুলের মতে, ‘হৃদয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক একটি সম্ভাবনা। আমি তার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। সুযোগ পেলে লাল বলের ক্রিকেটেও সে ভালো করবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
এদিকে প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে যুক্ত হয়েছেন রবিউল হক। মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে কাউকে বাজিয়ে দেখতেই রবিউলের অন্তর্ভূক্তি। যদিও বোলিং বেশ কার্যকর হলেও ব্যাটিংয়ে খুব একটা প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না তিনি। ৩২ ম্যাচে ১০৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তার ৬০২।
তবুও হাবিবুল বাশার আস্থা রাখছেন তার ওপরে, ‘রবিউল হককে দলে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো আমরা একজন বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। এই জায়গায় কয়েকজন ক্রিকেটারকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সামনে সুযোগ পেলে আরও কয়েকজনকে দেখব। রবিউলকে আমরা সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’
এছাড়া জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে ফিরেছেন হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ। হাসান ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে এখন ইংল্যান্ডে কাউন্সি খেলতে গেছেন। ওখানে দুই রাউন্ড খেলে জিম্বাবুয়েতে দলের সঙ্গে যোগ দেবন।
হাসানকে নিয়ে হাবিবুল বলেন, ‘হাসান মাহমুদ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটার, সব সংস্করণেই। এই মুহূর্তে তিনি ওয়ানডে দলে না থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে সবসময়ই আমাদের বিবেচনায় থাকেন। জাতীয় দলের বিভিন্ন স্কোয়াড নির্বাচনেও তিনি নিয়মিত আলোচনায় থাকেন। তাই তার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ভালো পরিবেশে, ভালো মানের ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। কাউন্টিতে দুটি ম্যাচ খেলার পর জিম্বাবুয়েতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হাসান মাহমুদ।
২৮ জুন হারারেতে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দলে নেতৃত্ব দেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
টেস্ট স্কোয়াড: সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, তাওহীদ হৃদয়, আমিত হাসান ও রবিউল হক।
