
নাহিদ রানা’র খুবই সামান্য একটা ইনজুরি হয়েছে। একেবারেই সিরিয়াস না। দুদিন পর থেকেই সে আবার বল করতে পারবে।
ইনজুরিটা অবশ্য খুব ভুতুড়ে। মাঠের ভিতরে যে অন ফিল্ড এডভার্টাইজমেন্ট ম্যাট বা পিভিসি থাকে সেটার পেরেকে খোঁচা লেগেছে হাতে। এটা ভয়ংকর হলেও হতে পারতো।
আপনারা ছবি দেখবেন পেরেকগুলো যেভাবে উঁচু হয়ে আছে তাতে যেকোন ওটার ওপর থেকে স্লাইড করলে কয়েক ইঞ্চি কেটে গভীর হয়ে যেতেই পারতো।
এখন কথা হচ্ছে এরকম বিপজ্জনক একটা জিনিস, এক গাদা পেরেক মাঠে এলো কী করে?
মাঠে যত রকম বিজ্ঞাপন দেখেন সব হচ্ছে ইন-স্টেডিয়া এডভার্টাইজমেন্ট। এই ইন-স্টেডিয়া এডভার্টাইজমেন্টের মধ্যে সবচাইতে দামী বিজ্ঞাপনগুলোর একটা হচ্ছে এই দুই বোলিং এন্ডের বিজ্ঞাপন। কারণ হচ্ছে প্রতিটা ডেলিভারির সময় অতি অবশ্যই কয়েক সেকেন্ডের জন্য এই বিজ্ঞাপনটা চোখে পড়বে।
শুরুতে এটা হাতে এঁকে করা হতো। তারপর ডাইস বানিয়ে ওটা ফেলে রঙ টেনে দেওয়া হতো। বছর কয়েক আগে পর্যন্ত এটাই প্র্যাক্টিস ছিল। সারা পৃথিবীতেই ছিল এই পেইন্টেড বিজ্ঞাপন ছিলো।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পেইন্টেড বিজ্ঞাপন অনেকগুলো দুর্বলতা নিয়ে হাজির হলো। প্রথমত বিজ্ঞাপনদাতারা দেখলেন এখানে যখন তিন বা পাচ ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচটাতে এসে বিজ্ঞাপনটার রঙ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দুই নাম্বার সমস্যা হচ্ছে কিউরেটর বলতে থাকলেন যে মাঠের ঘাসের ওপর এরকম বাজারি রঙ মাঠের খুব ক্ষতি করছে।
তিন নাম্বার এবং সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মাঠের ইউজ তো বেড়ে গেল আগের দিনের চেয়ে।
একটা মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ বা টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচটা হচ্ছে এক নাম্বার উইকেটে। দুই নাম্বার ম্যাচটা হচ্ছে আট নাম্বার উইকেটে। আপনি পেইন্ট করে রেখেছেন প্রথম উইকেটটাকে টার্গেট করে রেখে। দ্বিতীয় ম্যাচে যখন আট নাম্বার উইকেটে খেলা হচ্ছে তখন বিজ্ঞাপনটা আর টিভিতে ফুল ফ্রেম থাকে না। ক্যামেরা তো বোলারের সাথে সাথে ৮ নম্বর উইকেটের পেছনে চলে এসেছে।
সারা পৃথিবীতে শুরু হলো পিভিসি বিজ্ঞাপন বা ম্যাট বিজ্ঞাপন। মানে মাঠে অস্থায়ীভাবে লাগানো হবে এবং প্রতিটা ম্যাচে রিলোকেট করা হবে এই জিনিসটাকে। তখন আইসিসি এটা নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসল। সেফটি মেজার তো ঠিক রাখতে হবে। যেটা দিয়ে আটকানো হবে, সেই পেরেক যাতে এক্সপোজ না হয়, তার ওপর প্রথমে টেপিং করতে হবে। এরপরে প্যাডিং করতে হবে। মানে একটা প্যাডের মত জিনিস দিয়ে পুরোটা ঐ পেরেকগুলোরে ঢাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ওটার উপরে হাতি স্লাইড করলেও পেরেক এক্সপোজ না হয়।
ম্যাচ রেফারি খেলা শুরু হওয়ার আগে নিশ্চিত করবেন যে বাউন্ডারি লাইনে যে বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলো আছে, পিচের পাশের বিজ্ঞাপন, দুই বোলিং এন্ডের বিজ্ঞাপন এগুলোর কী অবস্থা এগুলো সব দেখতে হয়। দেখে তারপরে ম্যাচ রেফারি খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত দেন।
এখন ঘটনা হচ্ছে এই পুরো উৎপাত থেকে আধুনিক পৃথিবী মুক্তি পেয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া এসব ফিজিকাল বিজ্ঞাপন আর ইউজ করে না। তাহলে আপনারা দেখেন কি করে টিভিতে? ওগুলো সিজি দিয়ে করা হয়।
সিজি, মানে কম্পিউটার গ্রাফিক্স দিয়ে ওটা লক করে দেয়া হয় ফ্রেমে। ক্যামেরা ঘোরানো হলেও ঐ সিজিটা এমন ভাবে থাকবে আপনার মনে হবে ওটা মাঠে ফিক্সড হয়ে আছে।এর ফলে মার্কেটিং ডিফারেন্ট লেভেলে চলে গেছে।
যেমন বিসিবি দুই এন্ড দুইটা প্রতিষ্ঠানের কাছে বেচতে পারে সর্বোচ্চ। কিন্তু সিজি বিজ্ঞাপন এক একটা এন্ডেই ১০টা প্রতিষ্ঠানের কাছে বেচা সম্ভব; তুমি প্রথম ১০ ওভার নিবা তুমি পরের ১০ ওভার। বা একই কোম্পানি নিয়ে তার এক একেক প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন একেক ওভারে চালাতে পারে। একই ওভারের ছয় বলে ছয়টা বিজ্ঞাপন চালানো যেতে পারে। আবার বিভিন্ন মহাদেশের টেলিকাস্টে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতার কাছে এই প্লেসমেন্ট বেচা সম্ভব।
মাল্টি ডাইমেনশনাল ইউজ হচ্ছে এটার। আমার যতদূর মনে পড়ে কোন এক বিপিএল-এ এটা করা হয়েছিল। সে হোক।
ইন্টারন্যাশনালে এখনও কেন আমরা ঐ ম্যাট বিজ্ঞাপনে পড়ে আছি, আমি জানি না। যদি পড়েই থাকি, ওটা সেফটি সিকিউরিটি নিশ্চিত করা হয়নি কেন? এই ম্যাচের ম্যাচ রেফারি কে?
আপনি যে খেলা শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন, ওখানে যে পেরেকগুলো এক্সপোজ হয়ে আছে দেখছিলেন? এটা তো পুরো দায় তাকে নিতে হবে।
আমাকে বিসিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বললেন, তারা দ্রুত ডিজিটাল সিস্টেমে চলে যাবেন। আমি চাইবো, তারা এই কান্ডের জন্য কে বা কারা দায়ী, সেটাও বের করবেন- গ্রাউন্ডস, কিউরেটর, ম্যাচ রেফারির কাছে জবাব চাইবেন।
