
ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতা, বোলিং পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী
ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় শুধু দেশের সমর্থকদেরই নয়, মুগ্ধ করেছে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলীকেও। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মানসিকতা, বোলিং পরিকল্পনা ও দলগত ঐক্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কঠোর সমালোচনা করেছেন শান মাসুদের অধিনায়কত্ব এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। অথচ চা বিরতির আগে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১১৬ রান। সেখান থেকে শেষ সেশনে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রানের হার দেখে হতাশ বাসিত মনে করেন, বাংলাদেশ তাদের কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তায় ম্যাচটি জিতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ১১ জন খেলোয়াড় যেভাবে মাঠে লড়ছিল সেটা দেখে খুব ভালো লেগেছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা ভারত যখন দাপট দেখায় তখন এভাবেই লড়াই করে।”
বাসিতের মতে, পাকিস্তানের ব্যাটাররা যখন জুটি গড়ে তুলছিল, তখনই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিকল্পনা বদলে ফেলে বাংলাদেশ।
“যখন জুটি হলো তখন বাংলাদেশ পরিকল্পনা পরিবর্তন করল যে ওদেরকে (পাকিস্তান) দিয়ে বাজে শট খেলাবে,” বলেন তিনি।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ব্যবহারও আলাদা করে প্রশংসা করেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। তার মতে, দুই প্রান্তে একসঙ্গে পেসার না এনে একদিকে পেস ও অন্যদিকে স্পিন আক্রমণ চালানোর কৌশল ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের অভিজ্ঞতা ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মুগ্ধ বাসিত।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দুই প্রান্তেই ফাস্ট বোলার আনেনি। এক প্রান্তে ফাস্ট বোলার আর অন্য প্রান্তে স্পিনার। তাইজুল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতার পূর্ণ ব্যবহার করেছে। ও যেভাবে আব্দুল্লাহ শফিককে আউট করল যদিও আম্পায়ার আউট দেয়নি। এরপর ও হাসান আলীকে আউট করল সেটাও আম্পায়ার আউট দেয়নি। তাইজুল ডানহাতি ব্যাটারদের জন্য খুব বিপজ্জনক।”
পাকিস্তানের হারের মূল কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেছেন ভুল সিদ্ধান্ত ও দুর্বল ক্রিকেটকে। তার মতে, ম্যাচ ড্র হলেও সেটি পাকিস্তানের জন্য পরাজয়ের সমান হতো।
বাসিত বলেন, “ড্র মানে কি পাকিস্তানের জয়? না। পাকিস্তান তো ওই দিনই টেস্ট হেরে গিয়েছিল, যেদিন টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল।”
এ সময় পাকিস্তান দলের টিম ম্যানেজমেন্ট ও নেতৃত্ব নিয়েও তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
“জানি না দলে কত বড় বড় প্রফেসর বসে আছে যারা জানেই না যে চতুর্থ ইনিংসের কথা ভাবতে হয়, পঞ্চম দিন ম্যাচ জিতে কীভাবে বের হতে হয়। দেখে নিন, এভাবে ১০৪ রানে জিতে বের হতে হয়,” বলেন বাসিত।
শান মাসুদের অধিনায়কত্ব নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
তিনি বলেন, “এজন্যই বলি শান মাসুদ অধিনায়কত্ব করার মতো ম্যাটেরিয়াল না। যারা তাকে অধিনায়ক বানিয়েছে, কেবল বানানোর জন্যই তারা বানিয়েছে।”
তবে সমালোচনার মাঝেও পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়েননি তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাপ্য জয়কে স্বীকার করে নিয়েছেন পুরোপুরি।
“আমার আফসোস নেই যে পাকিস্তান হেরে গেছে। খারাপ ক্রিকেট খেলেছে তাই হেরেছে, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তাদের প্লেয়ারদের মুভমেন্ট দেখুন, এক ইউনিট হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল,” বলেন বাসিত।
বাংলাদেশের জয় আরও বড় ব্যবধানে হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি। বৃষ্টির কারণেই ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাসিত।
তার ভাষায়, “খুব ভালো খেলেছে বাংলাদেশ! আপনারা জেতার হকদার ছিলেন। পাকিস্তান খারাপ ক্রিকেট খেলেছে, পাকিস্তান টস জিতে ভুল করেছে। কালকেও বৃষ্টি এলো, তার আগে তৃতীয় দিনেও বৃষ্টি এলো। তাই ম্যাচটা এতদূর পর্যন্ত গেল। নয়তো সোয়া চার দিনেই টাটা বাই-বাই করে দিত বাংলাদেশ।”
