
স্ট্রাইক রেট হয়তো ভিন্ন কথা বলবে। কিন্তু যারা সে সময় খেলা দেখছেন তারা জানেন, হাবিবুল বাশার সুমন একজন জেনুইন স্ট্রোক মেকার ছিলেন।
তার একটা মজার ব্যাপার ছিল। ইনিংসের শুরুর দিকে একটা পুল করে বাউন্ডারি মারতে পারলে ভদ্রলোক খুব ভালো স্টার্ট পেয়ে যেতেন। একটা সত্তর প্লাস ইনিংস হয়ে যেতো।
খুব আশার কথা হচ্ছে, এই ইনিংসের শুরুতেও সুমন ভাই একটা পুল করে দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের তিনজন অটো চয়েজ পেসার নাহিদ রানা, মোস্তাফিজ আর তাসকিন একসঙ্গে তিনজনকে রেস্ট দিয়ে দিয়েছে সুমন ভাইয়ের নির্বাচক কমিটি।
এর মধ্যে মোস্তাফিজের একটু খুব সামান্য ইনজুরি কনসার্ন ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি এইরকম কনসার্ন নিয়েই এই বেচারাকে দিনের পর দিন টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়েছে। মোস্তাফিজকে ছাড়া আমরা কেমন যেন টি-টোয়েন্টি খেলবই না এরকম একটা প্রতিজ্ঞা থাকে।
তাসকিন ওয়ানডেতে এই সিরিজটায় খারাপ বোলিং করল। তারপরেও আমাদের নির্বাচকর সাধারণত ভাবেন যে সিনিয়র বোলার তো লাগবেই টি-টোয়েন্টিতে আমাদের লাগবেই। আর নাহিদ রানাকে এখন রেস্ট দেওয়া তো ট্রাডিশনালি পাপ হিসেবে দেখতেন নির্বাচকরা। এদের তিনজনেই রেস্ট দিয়ে দেওয়া হলো।
মজার ব্যাপার হচ্ছে যে রানারা কিন্তু এই সময় পিএসএল খেলতেও চলে যাবে। ফলে এই রেস্ট মানে শুধু ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট না।
এটা আসলে আমাদের সিলেকশন কমিটির রোটেশন পলিসি এবং পাইপলাইন চেক। একটা বড় সুযোগ হিসেবে নিলেন তারা। দেখেন এই যে ওয়ানডে টিমটা খেলল এই ওয়ানডে টিমটা লিপু ভাইয়ের করে যাওয়া।
প্রথম যে টিমটা সুমন ভাইরা করল সেখানেই তারা দেখালো, আমাদের ন্যাশনাল টিম পুল বড় কততে চান তারা। আমাদের নির্বাচকরা এই পুল বড় করার সাহসই দেখাতে পারেন না। মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, মুস্তাফিজ কাউকে রেস্ট দেওয়া যাবে না। তুমি মরো বাঁচো, তোমার বয়স হয়ে যাক, তোমার বিকল্প খোঁজার সময় আসছে, যাই হোক খেলতেই হবে। আবার বিশ্রামের কথা বললে সিনিয়ররাও খেপে যায়; জায়গা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের চটানোর সাহস পান না নির্বাচকরা।
এই বিভৎস কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে কি হয়, যখন মোস্তাফিজ অবসর নেবে, যখন নাহিদ রানা কোনো একটা ইনজুরিতে পড়বে বা তাসকিন ব্যাড ফর্মে চলে যাবে; রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পাওয়া যায় না। বাচ্চারা এসে ঘাবড়ে যায়- কি করবো, কি করবো!
আজকে সাকলায়েন এবং রিপন মন্ডলকে ডাকা হয়েছে। রিপন মন্ডল ওয়েল ডিজার্ভড বেশ কিছুদিন ধরেই। আর সাকলায়েনের তো একটা উত্থান হলো রূপকথার মতো। একটু হতাশ হলাম মৃত্যুঞ্জয় ডাক না পাওয়ায়।
আমি ঠিক তুলনাটা করতে চাচ্ছি না। তবে সাকলায়েনকে আরেকটু পরেও ট্রাই করা যেত। কিন্তু এই সিরিজটায় আমি চাইছিলাম মৃত্যুঞ্জয়কে ট্রাই করা হোক। মৃত্যুঞ্জয় আর তানজিম সাকিব টি-টোয়েন্টিতে দুই প্রান্ত থেকে বল করছে এটা দেখতে অসাধারণ হওয়ার কথা।
তবে এই হতাশা পাশে রেখেও বলতে পারি, দারুন একটা কাজ হয়েছে। আমরা কথায় কথায় বলি যে, আমাদের ১০-১৫ টা কোয়ালিটি পেস বোলার আছে। তাদের সবাইকে খেলার মধ্যে রাখা এই জিনিসগুলো খুব জরুরি।
সেই শুরুটা করে হাবিবুল হাশার ও তার ইয়াং টিম পুল করলেন। বাউন্ডারি নাও হতে পারে। সীমানার কাছে বল আটকে যেতে পারে; মানে আমরা সিরিজ হেরে যেতে পারি, রিপন-সাকলায়েন খারাপ করতে পারে।
তাতে সুমন ভাইকে পুল করায় বাধা দেবেন না। আজ বাদে কাল বাউন্ডারি হবে, সত্তর পার করে এবার নিয়মিত সেঞ্চুরিও করবেন মিস্টার ফিফটি।
কিপ পুলিং, সুমন ভাই।
