
কেউ খেয়াল করেছেন? এই অস্ট্রেলিয়া একাদশে একমাত্র জশ ইংলিশ আর এলেক্স ক্যারি- দুই উইকেটকিপার বাদে বাকি নয়জনই যে বোলিং করতে জানেন, এবং বেশ ভালোই জানেন?
বার্টলেট, এলিস, মেরেডিথ, গ্রীন, জাম্পা… ১০ ওভার করার মতো ৫ জন জেনুইন বোলার বাদেও একাদশে ম্যাথিউ শর্ট আছেন অফস্পিনার! যাঁর টি২০তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘ফাইফার’ আছে। গত সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন! কুপার কনোলিরও ফাইফার আছে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে গতবছর! তিনি বাঁহাতি স্পিন করেন।
ল্যাবুশেন একসময় নিয়মিত লেগস্পিন করতেন টেস্টে, লম্বা লম্বা স্পেল! এখনও মাঝেমধ্যে হাত ঘোরান! দলে সবচে “মোয়া” বোলার যাকে ধরা হয় সেই রেনশও দুইম্যাচে ৩ উইকেট নিলেন, আজ স্কয়ার টার্ন পেয়েছেন!
কথাগুলো লিখছি এটা বুঝাতে যে… বাংলাদেশ আসলে কোন লেভেলের বোলিং ইউনিটকে ফেস করে গতম্যাচে ২৮২ করেছিল, এই ম্যাচে ১৯২ চেজ করলো!
গতম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ব্যবহার করেছিলো সাতজন বোলিং অপশন, এই ম্যাচে ছয়জন… এবং একেকজন বোলার একেকরকম! এলিস সাবকন্টিনেন্টাল পিচের আদর্শ স্কিলফুল পেসার। মেরেডিথ, গ্রীন টল বাউন্সি। বার্টলেট জেনুইন সুইং বোলার! জাম্পা, শর্ট, রেনশ, কনোলি, ল্যাবুশেন… নেভার এন্ডিং স্পিন অপশন!
আজকে যখনই একজন বোলারকে খেলতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কমফোর্টেবল হয়েছেন সাথে সাথে নতুন একটা বোলার এনেছেন অজি অধিনায়ক ইংলিশ… উইকেট নিয়েছেন এলিস বাদে সবাই! এলিসও এগ্রেসিভ বোলিং করেছেন, এক দুইটা উইকেট পেতেই পারতেন! বৃষ্টির পর আবহাওয়া ঠান্ডা আর পিচ ড্যাম্প হয়ে আরো পোয়াবারো ছিলো অজিদের। পেসাররা মনের সুখে সুইং করাচ্ছিলেন, স্পিনাররা পাচ্ছিলেন টার্ন! সাথে চিরায়ত অজি ফিল্ডিং, এগ্রেশন তো ছিলই!
সব মিলিয়ে আমার ধারণা এতো “থ্রেটেনিং বোলিং ইউনিট” বাংলাদেশ নিকট অতীতে ফেস করেনি! এক একটা রান করতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটারদের!
স্টার্ক-কামিন্স-হেজলউড নেই তাই অজি বোলিংকে যারা “নখদন্তহীন” মনে করেন তাদের কিছু ফ্যাক্ট বলি:
প্যাট কামিন্স সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে কবে খেলেছেন, জানেন? ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে! প্রায় দুইবছর আগে! স্টার্ক আর হেজলউড গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেননি! ২০২৩ বিশ্বকাপের পর প্রায় তিনবছরে একজন মাত্র ৯টি ও আরেকজন ১১টি ওয়ানডে খেলেছেন! আর আন্তর্জাতিক টি২০ তো এরা কেউ খেলেনই না!
এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো অস্ট্রেলিয়ার মূল সাদা বলের পেসারদের তালিকায় এই তিনজন আসলে আর তেমনভাবে নেই! শেষ বয়সে পিক এন্ড চ্যুজ করে ওয়ানডে খেলছেন! বাকিসময়টা এই এলিস, বার্টলেট, গ্রীনরাই চালাচ্ছেন। এরাই এখন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ! আমার সমূহ ধারণা ২০২৭ বিশ্বকাপে অজি তারকা পেসারত্রয়ীর মিনিমাম একজন বা দুজনও নাও থাকতে পারেন! তার জায়গায় এলিস-বার্টলেট খেলবেন! এবং ভালোই খেলবেন কারণ তারা যথেষ্ট এক্সপোজার পাচ্ছেন রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে!
সুতরাং “স্টার্ক-কামিন্স-হেজলউড আসলে অজি বোলিং একদম টপক্লাস হয়ে যেত” বিষয়টা তা না… বরং গত দুইবছরের মাঝে সেরা অজি বোলিং আক্রমণ মোকাবিলা করেই সিরিজটা জিতেছে বাংলাদেশ!
লেটস এপ্রিশিয়েট আওয়ার টিম ফর দ্যাট!
