
অমিত হাসান আর তানজীদ হাসান; আপনি যদি লাল বলের ক্রিকেটে ঘরোয়া পারফরম্যান্স দেখেন, ঘরোয়া ক্রিকেটকে সম্মান করেন, এই দুজনের মাঝে অমিত হাসানই টেস্ট একাদশে সুযোগটা আগে ডিজার্ভ করেন। কিন্তু বাস্তবতা যদি বিবেচনা করেন, দেখবেন অমিতের আগে তানজীদই সুযোগ পাবেন একাদশে, কারণটা হলো নিচের ছবিটা।
অমিত হাসান খেলেন মিডল অর্ডারে, এখন এই বাংলাদেশ দলটার মিডল অর্ডারে কে কে খেলেন? তিনে মুমিনুল, চারে শান্ত, পাঁচে মুশি, ছয়ে লিটন; একদম লজিকালি চিন্তা করে বলেন তো, অমিত কাকে রিপ্লেস করবেন? তার উপর এগুলো মহাগুরুত্বপূর্ণ সিরিজ, ডব্লুটিসির সিরিজ। হ্যাঁ, নন ডব্লুটিসি ম্যাচগুলোতে অমিতকে সুযোগ দেওয়া যায়। কিন্তু এসব ম্যাচে মুমিনুল, শান্ত, মুশি, লিটনের কেউ ইঞ্জুরিতে না পড়লে অমিত কি আদৌ চান্স পেতে পারেন? এই ডব্লুটিসিতে বাংলাদেশের সবগুলো জুটি হয়েছে মিডল অর্ডারে, ওপেনিং না। যদিও ম্যাচ সবে তিনটা হয়েছে, কিন্তু জুটির তালিকায় নামগুলো দেখেন, তিনবার শান্ত, তিনবার মুশি, দুইবার লিটন। সাদমান আছেন অবশ্য একবার, কিন্তু রান তো বেশি করা উচিৎ ওপেনারদেরই, তাই না? আমি তাও তো এই তালিকা আজকে মুমিনুল আর মুশির জুটি অ্যাড নাই, তবু যেটা আছে; সেখানে মাত্র দশ নামের মাঝে ওপেনার একবার।
এই জায়গাটাতেই তানজীদের চান্সেস হাই। তানজীদ রিপ্লেস করবে ওপেনারকে, আর এই জায়গাটাতে পিলো পাসিংই হয়। সাদমান তাও একটু রেগুলারলি রান করছেন, যদিও খুব কনভিন্সিং, তা না; বাট ভালো করছে। কিন্তু আরেক জায়গায় বিজয় আসুক, বা জয়, কাজের কাজ হচ্ছে না। যদিও জয় ১৭১ করেছেন আগের সিরিজেই, কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দেখে জাজ করা যে কঠিন, সেটা পাকিস্তানের বিপক্ষে সকালে জয়ের দুই বার ক্যাচ দেওয়া দেখেই বুঝা গেছে, তাও আবার ওই যে আউটসাইড এজেই, যেটা ঘিরেই জয়ের এত সমালোচনা।
বাংলাদেশের ওপেনারদের এই অবস্থার জন্য তানজীদের আগে অভিষেক হওয়ার চান্স হাই, আর মিডল অর্ডার সেটেলড দেখে অপেক্ষা করতে হবে অমিতকে। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারকে একদম তুখোড় ব্যাপারটা এমন না, কিন্তু বাংলাদেশের পারস্পেক্টিভে মিডল অর্ডারে ১০ দিনে ৮ দিনই ভালো করে, আর ওপেনাররা ১০ দিনে ২ দিন ভালো করে। ঠিক এই কারণটাই তানজীদকে অভিষেক করানোর চান্স বাড়িয়ে দিয়েছে।
