
তাইজুল ইসলাম আমার কাছে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড “ওয়ার্কহর্সদের” একজন। এবং আমার মতে আসলেই সে যে সম্মানটা পায় তার থেকে আরো বেশি রিস্পেক্ট ও এপ্রিসিয়েশন ডিজার্ভ করে।
টেস্টে তাইজুলের মত “ওয়ার্কহর্স” টাইপ বোলার একটা এসেট যারা টানা ২০ ওভার, ২৫ ওভার, ৩০ ওভার একই ইনটেনসিটি নিয়ে বোলিং করতে পারে। সাথে একুরেট বোলিং দিয়ে উইকেট শিকার-ই না, সাথে ম্যাচকে ধীরে ধীরে নিজের দিকে টেনে আনা বা একটা পুরো সেশন কন্ট্রোল করার ক্ষমতা করা – এগুলা আসলে টেস্টের ভাইটাল একটা গুণ!
তাইজুল তার প্রথম টেস্ট ডেবিউ তেই ৪৭ ওভার বোলিং করে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মনে আছে? আর এই মাত্র শেষ হওয়া টেস্টের নাম্বার্স দেখেন। ৫০ টা ওভার করে ৮ উইকেট নিয়েছেন, আবার লং লং স্পেল করে বাকি বোলারদের যেমন কম্পলিমেন্ট করেছেন মিসিং পিস হিসেবে।
তাইজুলের বোলিং খেয়াল করে দেখলে বুঝবেন ওর সবচেয়ে স্পেশাল জিনিস হলো মনে মনে পিচ ম্যাপিং করে নেওয়ার ক্ষমতাটা। বুঝিয়ে বলছি….
তাইজুল আসলে ব্যাটসম্যানকে শুধু বল করে না, সে তাকে ধীরে ধীরে ফাঁদে ফেলে। প্রথম কয়েক ওভারে সে পিচ ম্যাপ করে দেখে পিচের কোথায় গ্রিপ আছে, কোথায় বল স্কিড করছে, কোথায় বল থামছে — সব আগে বুঝে নেয়। তারপর শুরু হয় তার আসল খেলা!
এক জায়গায় টানা বল করতে করতে সে ব্যাটসম্যানের পুরো মাথার ভেতরে ঢুকে যায়।
কালকের দিনের ব্রেকথ্রু আনা ওভারগুলোই দেখেন। এরকম নির্বিষ পিচেও কোনো বল ২ ডিগ্রি টার্ন, কোনোটা ৪ ডিগ্রি, আবার হঠাৎ ডেঞ্জারাস স্ট্রেট আর্ম বল যা ব্যাটসম্যানের ডিফেন্স ভেদ করে ঢুকে যায় । এই ছোট ছোট ভ্যারিয়েশনগুলোই তাকে খুব ইফেক্টিভলি সফলতা এনে দেয়।
তাইজুলের accuracy ও অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশের উইকেটে যেখানে স্পিনাররা অনেক সময় অতিরিক্ত টার্ন খুঁজতে গিয়ে লাইন হারায়, সেখানে তাইজুল বারবার “boring areas” এ বল ফেলে ব্যাটসম্যানকে ভুল করতে বাধ্য করে। এই discipline টাই আসলে ওর স্ট্রেন্থ।
এই লোকটা আসলে টেস্ট ফরম্যাটে নিঃশব্দে পাদপ্রদীপের নিজের কাজ করে যায়। হয়তো বিগ headlines সবসময় পায় না, কিন্তু টেস্ট ম্যাচের ভিত গড়ে দেয় প্রায় সময়ই!
এইতো কিছুদিন আগে “তাইজুল খুবই আন্ডাররেটেড, আরো সম্মান ডিজারেভ করেন ” এই বক্তব্যে অনেক ট্রলিং হয়েছিল মনে আছে?
কিন্তু তাইজুলের ক্যারিয়ার নাম্বার্সই বলে দেয় সে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে আসলেই একজন লিজেন্ডারি প্লেয়ার হিসেবে উচ্চারিত হবার যোগ্য দাবিদার আর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস নিয়ে কথা হলে তাইজুল ইসলামের নাম অনেক বেশি সম্মানের সাথে উচ্চারণ করা উচিত, একটুও বাড়িয়ে বলছি না…
-পেপ হোসেন গার্দিওয়ালা
