
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির প্রশংসা করার পাশাপাশি পেসার হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন তিনি। প্রতিবেদন জিও সুপারের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে আকরাম লেখেন, ‘মহাশক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কী দুর্দান্ত জয়! এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছে এবং এই ফরম্যাটকে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।’
বাংলাদেশের জয়ে ব্যাট হাতে ওপেনার তানজিদ হাসান এবং বল হাতে হাসান মাহমুদের অবদানের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি। প্রথম ইনিংসে তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ছিলেন বল হাতে দুর্দান্ত। নিখুঁত লাইন-লেন্থে ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি।
হাসানের বোলিংয়ে বিশেষভাবে মুগ্ধ আকরাম। তার মতে, অতিরিক্ত বৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর না করে টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী সঠিক লেংথে বোলিং করাই হাসানের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আকরাম বলেন, ‘সবাই কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে। ওপেনার তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছে। তবে হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে আমি খুবই মুগ্ধ। সে সুন্দর লেংথে বল করেছে। বিশেষ কিছু করার চেষ্টা না করে একেবারে যথাযথ টেস্ট লেংথে বোলিং করেছে।’
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। স্টিভেন স্মিথ ১০৯ বলে ৭১ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন। জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেড করেন যথাক্রমে ২৩ ও ২২ রান।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান মাহমুদ। ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। ফলে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জশ হ্যাজলউড। তিনি ৮৯ রানে নেন ৬ উইকেট। মিচেল স্টার্ক দুটি এবং প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ করতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। ৯৫.১ ওভারে ২৮৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। তার ব্যাট থেকে আসে ২০১ বলে ১০৪ রান। স্টিভেন স্মিথ করেন ৪৪ এবং মার্নাস লাবুশেন করেন ৩১ রান।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৩.১ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে তিনি নেন ৫ উইকেট। হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে তার মোট শিকার ৯-এ নিয়ে যান।
ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। মাত্র ১৪.২ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে সেই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে এবং সাদমান ইসলাম করেন ২৫ রান।
