
‘আওয়াজ্জিয়া’— যে ঘোড়াগুলো কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দেহ পদদলিত করেছিল!
ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র দেহ পদদলিত করার জন্য ব্যবহৃত ঘোড়াগুলো সাধারণ ঘোড়া ছিল না; বরং এগুলো বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী ঘোড়া ছিল, যেগুলোকে ‘আওয়াজ্জিয়া’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্মান গবেষকদের ভাষায় এ ধরনের শক্তিশালী ঘোড়াকে World’s Strongest Stallion বা ভারবাহী শক্তিশালী স্ট্যালিয়ন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এসব ঘোড়া অত্যন্ত ভারী বস্তু টেনে নেওয়া, পিষ্ট ও পদদলিত করার মতো কঠিন কাজে ব্যবহৃত হতো।
কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণে বর্ণিত আছে, ইবনে জিয়াদের সৈন্যদের একজনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল— “কারবালায় সবচেয়ে ভয়াবহ কোন দৃশ্যটি তুমি দেখেছ?” সে উত্তরে বলেছিল, “আমি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার শব্দ শুনেছি। যখন আমরা তাঁর দেহের উপর দিয়ে ঘোড়া দৌড়াতাম, তখন সেই শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হতো।”
অনেকেই বলে যে আমরা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর উপর এত কান্না করি কেন?
তারা একটু চিন্তা করে দেখুক— ইতিহাসে পাওয়া যায় ইমাম হুসাইন (আ.)’র দেহকে ১০টি ঘোড়া দ্বারা পদদলিত করা হয়েছিল, যার একটি পায়ের ওজন ছিলো ৬৫ কেজি। একটি ঘোড়ার ৪টি পা ১০টি ঘোড়া। ৪x১০= ৪০, ৪০x৬৫ = ২৬০০ কেজি। আনুমানিক ২৬০০ কেজি দ্বারা মাজলুম ইমাম হুসাইন (আ.) পদদলিত হয়েছেন।
এই নির্মমতা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না; এটি ছিল মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক জঘন্যতম বর্বরতার প্রতীক। তাই যুগে যুগে মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে কারবালার শোক অম্লান হয়ে আছে।
ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “আমি যখন আমার পিতার পবিত্র দেহ দাফনের জন্য তুলে নিয়েছিলাম, তখন দেখেছি তাঁর পাঁজরের হাড়গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। আমি আমার পিতাকে সেই অবস্থাতেই দাফন করেছি।”
অত্যাচারী ও অত্যাচারীদের অনুসারী ব্যতীত মানবতার পক্ষের সকল মানুষ এই অসীম আত্মত্যাগকে স্মরণ করে। কারবালার সেই বেদনাবিধুর ঘটনা স্মরণ করলেই হৃদয় অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও মানবমর্যাদা রক্ষার এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত।
اَللّٰهُمَّ الْعَنْ اَوَّلَ ظَالِمٍ ظَلَمَ حَقَّ مُحَمَّدٍ وَ اٰلِ مُحَمَّدٍ، وَ اٰخِرَ تَابِعٍ لَهٗ عَلٰى ذٰلِكَ…
হে আল্লাহ! যারা মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি সর্বপ্রথম জুলুম করেছে এবং যারা সেই জুলুমের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করেছে, তাদের সকলের ওপর আপনার লানত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! যারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাদের সহযোগিতা করেছে এবং তাঁর শাহাদাতে সন্তুষ্ট ছিল— তাদের সকলের ওপর আপনার লানত বর্ষিত হোক।
اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ، وَعَلَى الْأَرْوَاحِ الَّتِي حَلَّتْ بِفِنَائِكَ، عَلَيْكَ مِنِّي سَلَامُ اللهِ أَبَدًا مَا بَقِيتُ وَبَقِيَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ، وَلَا جَعَلَهُ اللهُ آخِرَ الْعَهْدِ مِنِّي لِزِيَارَتِكُمْ.
হে আবা আবদিল্লাহ! আপনার প্রতি সালাম। আপনার সান্নিধ্যে শাহাদাতবরণকারী পবিত্র আত্মাসমূহের প্রতিও সালাম। যতদিন আমি জীবিত থাকি এবং যতদিন দিন ও রাত বিদ্যমান থাকে, ততদিন আল্লাহর সালাম আমার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি বর্ষিত হোক। আল্লাহ যেন এ যিয়ারতকে আমার জীবনের শেষ যিয়ারত না করেন।
السَّلَامُ عَلَى الْحُسَيْنِ، وَعَلَى عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، وَعَلَى أَوْلَادِ الْحُسَيْنِ، وَعَلَى أَصْحَابِ الْحُسَيْنِ.
সালাম বর্ষিত হোক ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রতি; সালাম বর্ষিত হোক ইমাম আলী ইবনুল হুসাইন (আ.)-এর প্রতি; সালাম বর্ষিত হোক ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সন্তানদের প্রতি এবং তাঁর বিশ্বস্ত সাথীদের প্রতি।
