
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু মুহূর্তেই তা বদলে যায় এক নিখুঁত ডেলিভারিতে। ইনসুইং করা বলটি ঠিক লেংথে পড়ে ভেতরে ঢুকে সরাসরি আঘাত হানে স্টাম্পে। ব্যাট নামানোর আগেই বিদায় নিতে হয় তানজিদ হাসান তামিমকে। জ্বলে ওঠা বেলস যেন তার অপ্রস্তুত অবস্থারই প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়ায়। এমন বল সামলানোর প্রস্তুতি তার ছিল না, সেটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেই মুহূর্তেই।
কিছুদিন আগেও আত্মবিশ্বাসী এক ব্যাটার হিসেবে যাকে দেখা যেত, এখন তাকে বেশ অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা যাচ্ছে। ক্রিজে তার অবস্থান, শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত সবকিছুতেই দ্বিধার ছাপ। বিশেষ করে গতি আর সুইং মোকাবিলায় বারবার সমস্যায় পড়ছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তার পারফরম্যান্স এই দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
একটি ৭৬ রানের ইনিংস বাদ দিলে তার বাকি স্কোর ২, ১, ২০ ও ৬। এমন পরিসংখ্যান তার সামর্থ্যের সঙ্গে মেলে না। ইনিংসের শুরুতে সময় নিচ্ছেন, কিন্তু সেই সময়কে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারছেন না।
টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলাই মূল বিষয়। কিন্তু তামিমের সাম্প্রতিক ব্যাটিংয়ে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো প্রবণতা। ডট বল বাড়ছে, রান তোলার গতি কমছে। আগের ম্যাচে ২৫ বলে ২০ রান, পরের ম্যাচে ১০ বলে মাত্র ৬ রান। এই ধরণের ইনিংস দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
পরিসংখ্যানও উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। একাধিক বল খেলে ১২ বার ১০০ এর নিচে স্ট্রাইক রেটে আউট হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ৬ ইনিংসের মধ্যে ৪ বার এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্তত ২০ বল খেলে কম স্ট্রাইক রেটে আউট হওয়ার ঘটনাও রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।
বাংলাদেশের মোট রানের প্রায় ১৬ শতাংশ আসে তার ব্যাট থেকে। তাই ওপেনিংয়ে তার ব্যর্থতা পুরো ব্যাটিং লাইনআপে প্রভাব ফেলে। বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা রান তাড়া করা দুই ক্ষেত্রেই ভালো শুরু প্রয়োজন। সেখানে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে উত্থান পতন স্বাভাবিক হলেও এখন প্রয়োজন দ্রুত ছন্দে ফেরা। শট নির্বাচনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং শুরুটা কাজে লাগানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো ইনিংসই আবার বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি। এখন সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দল ও সমর্থকরা।
