
গতি বিচারে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সমপর্যায়ের। কথাটা ক্রিকেট ডট কম ডট এইউ এমনি এমনি বলেনি, চাক্ষুষ পরিসংখ্যান হাজির করে বলেছে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার আসন্ন টেস্ট সিরিজে গতির দিক থেকে বিশ্বসেরা দুই পেস বোলিং ইউনিটের লড়াই কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমটি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টকে সামনে রেখে বিগত সীমিত ওভারের কিছু সিরিজে অজিদের মূল পেসাররা বিশ্রাম পেয়েছিলেন। বাংলাদেশও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামদের বিশ্রাম দিয়েছিল। আর এই মূল তিন পেসার ছাড়া দলের পারফরম্যান্সও ছিল ছন্নছাড়া।
অস্ট্রেলিয়া তাই ভালো করেই অনুধাবন করছে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের ঝাঁজ। ক্রিকেট ডট কম ডট এইউ লিখেছে, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নাহিদ রানা। ক্রিকভিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে তিনিই টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে গতিময় পেসার। একই সময়ে ঘণ্টায় গড়ে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা একমাত্র অন্য বোলার মিচেল স্টার্ক।’

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পর সবচেয়ে গতিময় পেস ইউনিট বাংলাদেশের। দুই দলের পেসাররা যেসব বল করেছেন, তার ২০ শতাংশেরও বেশি ডেলিভারির গতি ছিল ১৪০ কিলোমিটারেরও বেশি। আর খোদ অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমই বলছে, ‘এ ধরনের গতির বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের দুর্বলতার নজির রয়েছে।’
২০২৪ সালের মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির ডেলিভারি ২২.০৭ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা ২১.৭৮ শতাংশ। আর কোনো দল ধারেকাছেও নেই। বিশ্বসেরা পেসারদের জন্ম দেওয়া ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৩.৩২ শতাংশ। এরপর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা, ১১.৭ শতাংশ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের ৯.৪৫ শতাংশ। ভারতের ৯.২১ শতাংশ আর পেসারদের জন্য বিখ্যাত আরেক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮.৩২ শতাংশ।
সংখ্যার দিক দিয়ে বিচার করলে এই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা ১,৮৫৩টি ডেলিভারি করেছেন ১৪০ কিলোমিটার গতির ওপরে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শঙ্কাটা ১,২৮২। অর্থাৎ, এক্ষেত্রেও স্টার্ক-কামিন্সদের সাতে সমানে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন নাহিদ-শরিফুলরা।
লড়াইটা হতে পারে স্টার্ক বনাম নাহিদও। ২০২৪ এর মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গতিতে বল করেছেন স্টার্ক, গড়ে ১৪১.০৪ কিলোমিটার। এরপরই নাহিদ রানা। ১১ টেস্টে ১,৬৮৮টি ডেলিভারি করা এই পেসারের গড় গতি ১৪১.৫৪ কিলোমিটার। এই সময়ে সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারিটিও করেছেন স্টার্ক- ১৫৭.৩৯ কিমি গতিতে। এরপরই নাহিদ রানা, যার সর্বোচ্চ গতির ডেলিভারি ছিল ১৫১.৯৬ কিমি। উইল ও’রুর্ক, জফরা আর্চার, জাসপ্রিত বুমরাহ, জশ টাং, শামার জোসেফ এমনকি প্যাট কামিন্স- সবাই-ই নাহিদের চেয়ে পিছিয়ে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ প্রথম এবং ২২ আগস্ট ম্যাকাওয়ে দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে।
