
ফুটবল মানেই একরাশ আবেগ, আনন্দ আর মাঠের সবুজ গালিচায় টানটান উত্তেজনা। তবে এই সুন্দর খেলাটির গায়ে মাঝেমধ্যেই কলঙ্কের দাগ মেখে দেয় বেটিং এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অনৈতিক কাজ। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত যখন নিজেদের প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটান, তখন পর্দার আড়ালে একদল অসাধু চক্র ফায়দা লোটার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এবার এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এলো ফিফা।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল অংশ নেওয়া দলের হিসাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে হওয়া এই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেয় এবং সব মিলিয়ে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এত বড় পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজিত হওয়ায় ম্যাচ পাতানো বা বেটিংয়ের ঝুঁকিও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এত বড় চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, ফুটবলের সৌন্দর্যকে ম্লান করতে পারেনি কোনো সন্দেহজনক বেটিং বা ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া।
ফিফা ইন্টিগ্রিটি টাস্কফোর্স সম্প্রতি তাদের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের প্রতিটি তারা রিয়েল টাইমে বা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছে। এই সুদীর্ঘ ও উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্টের কোনো একটি ম্যাচেও সন্দেহজনক বেটিং বা ম্যাচ পাতানোর মতো কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খেলাধুলার ইতিহাসে এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক খবর। বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি আসরে দুর্নীতি রুখতে ফিফার প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই টাস্কফোর্সে শুধু ফিফার নিজস্ব লোকেরাই ছিলেন না, বরং এফবিআই, ইন্টারপোল, জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিস, কনকাকাফ, উয়েফাসহ উত্তর আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা একযোগে কাজ করেছেন। তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই মাঠের ভেতরে ও বাইরের সব খবরাখবর এবং বেটিং বাজারের গতিবিধি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
ফিফার সিনিয়র ইন্টেগ্রিটি ম্যানেজার লিয়াম রিচ এই সফলতার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য উদ্বেগগুলো মূল্যায়ন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ফিফা ইন্টেগ্রিটি টাস্কফোর্স একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করেছে। আমরা টাস্কফোর্সের সব সদস্যকে তাদের দক্ষতা এবং প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপেই নয়, ভবিষ্যতেও ফুটবলের এই পরিচ্ছন্ন রূপ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর ফিফা। চলতি বছরের শেষে ফিফার যুব প্রতিযোগিতা এবং ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপেও একই ধরনের কড়া নজরদারি চালাবে এই টাস্কফোর্স। ফুটবল যেন সবসময় তার নিজস্ব গতিতে, স্বচ্ছতা আর সততার সঙ্গেই এগিয়ে যায়—২০২৬ বিশ্বকাপ যেন বিশ্ববাসীর কাছে সেই বার্তাই পৌঁছে দিল। মাঠের লড়াইটা ছিল কেবলই খেলোয়াড়দের ঘাম, দক্ষতা আর আবেগের, কোনো জুয়াড়ির ছকের নয়।
