
বিশ্বকাপের উত্তাপ শেষ হলেও লিওনেল মেসির মানবিকতার গল্প যেন থামছেই না। মাঠে প্রতিপক্ষ হলেও ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার প্রতি বিরল সম্মান ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ফাইনাল উপভোগের জন্য ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি তাদের যাতায়াতের পুরো ব্যবস্থাও করে দেন মেসি।
ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেখানে সাধারণত ৯০ মিনিটেই শেষ হয়, সেখানে লিওনেল মেসি লিখলেন এক ভিন্ন গল্প। ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের ভিআইপি গ্যালারিতে ভোজিনহার পরিবারের জন্য বিশেষ টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শুধু আমন্ত্রণ জানিয়েই থেমে থাকেননি, কেপ ভার্দে থেকে ফাইনাল দেখতে আসার পুরো ভ্রমণ ব্যয়ও বহন করেছেন তিনি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, পুরো ঘটনাটি ফাইনালের আগে গোপন রাখা হয়েছিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভোজিনহার পরিবারের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই মানবিক এই উদ্যোগের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয়ে ভোজিনহা ছিলেন ম্যাচের অন্যতম উজ্জ্বল পারফর্মার। একের পর এক অসাধারণ সেভে তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। সেই ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সের প্রকাশ্য প্রশংসাও করেছিলেন মেসি—আর ফাইনালের আগে তাঁর পরিবারের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগ যেন সেই সম্মানেরই আরেক অনন্য প্রকাশ।
সেই মুহূর্তটি এখনও ভোলেননি ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসির সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “খেলা শেষে মেসির কাছে গিয়েছিলাম। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তুমি খুব ভালো খেলেছ। তোমার দেশ তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে।’ মেসির মতো একজন ফুটবলারের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।”
মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে প্রতিপক্ষকে এভাবে সম্মান জানানো মেসির এই আচরণ দ্রুতই ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছে। অনেকের মতে, এটি শুধু একজন মহান ফুটবলারের নয়, বরং একজন মহান মানুষের পরিচয়—যিনি জয়-পরাজয়ের সীমা পেরিয়ে প্রতিভা ও পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে কখনোই কার্পণ্য করেন না।
