
আগামী মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে যোগ দিতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত সাত বছরের মধ্যে এটি হবে তার প্রথম ভারত সফর, যা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সম্পর্কের বরফ গলার নতুন একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর বেইজিং ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের এই উপস্থিতি ব্রিকসের নিজস্ব এজেন্ডার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করবে।
সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ভারতীয় সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা বর্তমানে হোটেল এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল চূড়ান্ত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছিলেন, তবে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। এর মাঝেই সম্প্রতি সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধ দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাকবিতণ্ডার জন্ম দেয়।
অন্য দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালের গত সফরে শি জিনপিংয়ের সাথে ২০০ জনেরও কম কর্মকর্তা থাকলেও এবার তার সফরসঙ্গী হতে পারেন প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যগুলো নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজতে দুই দেশের কর্মকর্তারা এই সম্মেলনকে কাজে লাগাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শি জিনপিংয়ের চূড়ান্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের এজেন্ডা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং সক্রিয়ভাবে এতে অংশগ্রহণ করে। বর্তমান স্বাগতিক দেশ ভারতকে এবারের ব্রিকস সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করতে চীন সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের সফর সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলেছে, বর্তমানে আমাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, শি জিনপিং গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
