
থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিনেতা ও আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার বিকালে সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার মধ্যরাতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া প্রতারণা ও আত্মসাতের মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, হায়দার কবির মিথুন রাজধানীর দক্ষিণখানের উত্তর ফায়দাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি টেলিভিশন নাটকের অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি উত্তরখান এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর জি প্লাস নয়তলা ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ১৫ লাখ টাকা। এ প্রলোভনে পড়ে বাদীসহ বিভিন্ন গ্রাহক উত্তরা সেক্টর-৪-এর অফিসে গিয়ে বিনিয়োগ করেন। বাদী ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। তার এক বন্ধুও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।
এজাহারে বলা হয়, অর্থ নেওয়ার পর কোম্পানি গ্রাহকদের মানি রিসিপ্ট ও চেক দিলেও প্রতিশ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। পরে গ্রাহকেরা জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জনের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের অফিস থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে যান এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। নতুন বোর্ড জানিয়ে দেয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনের দায় তারা নেবে না।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। পরে দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক প্রতারণার মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলা ছাড়াও উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার কয়েকটি সিআর মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হায়দার কবির মিথুনকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
