
**হিল্লা বিয়ে** (নিকাহ হালালা) হলো ইসলামী শরিয়তের একটি বিশেষ পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়।
যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে **তিন তালাক** (তালাকে মুগাল্লাযা) দেয়, তাহলে ওই স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যায়। এরপর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে চাইলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী:
1. স্ত্রীকে অন্য একজন পুরুষকে স্বাভাবিকভাবে বিয়ে করতে হবে।
2. সেই বিয়ে বাস্তব ও বৈধ দাম্পত্য জীবন হতে হবে।
3. পরে যদি দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক দেন বা মারা যান এবং ইদ্দত শেষ হয়,
4. তখন প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করা বৈধ হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, **শুধু প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বা চুক্তি করে করা “হিল্লা বিয়ে” ইসলামের অধিকাংশ আলেমের মতে হারাম ও গুরুতর গুনাহ।** অর্থাৎ কাউকে সাময়িকভাবে বিয়ে করে পরে তালাক দেওয়ার পূর্বপরিকল্পিত ব্যবস্থা ইসলামে অনুমোদিত নয়।
এ কারণে হিল্লা বিয়ে নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা হয়:
* শরিয়তের বিধান অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বিয়ে।
* প্রথম স্বামীর কাছে ফেরানোর উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত “হালালা” বা “হিল্লা” বিয়ে, যা অধিকাংশ ইসলামী পণ্ডিত নিন্দনীয় বা নিষিদ্ধ বলে মনে করেন।
বাংলাদেশের আইন ও বিভিন্ন ইসলামী মাজহাবের দৃষ্টিতে **হিল্লা বিয়ে (নিকাহ হালালা)** বিষয়ে সংক্ষেপে:
বাংলাদেশের আইন
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন মূলত ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক। তবে আইনে “হিল্লা বিয়ে” নামে আলাদা কোনো বিয়ের বিধান নেই।
যদি কোনো দম্পতির মধ্যে এমন তালাক সংঘটিত হয় যা ইসলামী বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত (তালাকে মুগাল্লাযা) বলে গণ্য হয়, তাহলে পুনরায় বিয়ে করার ক্ষেত্রে ইসলামী বিধানই প্রযোজ্য হয়। তবে শুধুমাত্র প্রথম স্বামীর কাছে ফেরার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত সাময়িক বিয়ে করা আইনগত ও নৈতিকভাবে বিতর্কিত।
ইসলামী মাজহাবগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি
হানাফি মাজহাব
* তিন তালাক কার্যকর হলে স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যান।
* অন্য পুরুষের সঙ্গে বৈধ ও বাস্তব বিয়ে হতে হবে।
* দ্বিতীয় বিয়ে স্বাভাবিকভাবে শেষ হলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করা যেতে পারে।
* পূর্বপরিকল্পিত “হিল্লা” বা “হালালা”কে গুরুতর গুনাহ হিসেবে দেখা হয়।
শাফেয়ি মাজহাব
* হানাফি মতের কাছাকাছি অবস্থান।
* কৃত্রিমভাবে হালালা আয়োজন করা নিন্দনীয় ও শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
মালিকি মাজহাব
* পরিকল্পিত হিল্লা বিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।
* অনেক মালিকি আলেম এ ধরনের বিয়েকে অবৈধ বা বাতিল বলে মত দিয়েছেন।
হাম্বলি মাজহাব
* ইচ্ছাকৃত হালালাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলে গণ্য করা হয়।
* এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসের ভিত্তিতে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে কী বলা হয়েছে?
অনেক আলেম এমন হাদিস উদ্ধৃত করেন যেখানে পরিকল্পিত হালালার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। তাই ইসলামী পণ্ডিতদের বড় অংশের মতে, “এক রাতের জন্য বিয়ে” বা “ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিয়ে” শরিয়তের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অনেক দেশে “তিন তালাক” ও “হিল্লা বিয়ে” নিয়ে সামাজিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া তিন তালাক একসঙ্গে দিলে তা এক তালাক গণ্য হবে নাকি তিন তালাক গণ্য হবে—এ নিয়েও সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে।
সুতরাং, হিল্লা বিয়ে বলতে সাধারণত যে “চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিয়ে” বোঝানো হয়, তা ইসলামের মূল শিক্ষায় ব্যাপকভাবে নিন্দিত। তবে স্বাভাবিকভাবে দ্বিতীয় বিয়ে হওয়ার পর তা বৈধ কারণে শেষ হলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহের সুযোগ ইসলামী ফিকহে স্বীকৃত।
