
আজ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হবে না। একটি যুগের পরীক্ষা, একটি দেশের স্বপ্ন আর একটি প্রজন্মের আবেগ জড়িয়ে থাকবে। জয় শুধু সেমিফাইনালে ওঠা নয়, জয় মানে ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় লেখা। হার মানে কোটি মানুষের বুকভাঙা দীর্ঘশ্বাস।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে তেমনই এক মহারণ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনগেলউডের সোফি স্টেডিয়ামের ঝলমলে আলোয় মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং রুডি গার্সিয়ার নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন দেখা বেলজিয়াম।
শেষ বাঁশি বাজার পর একটি দল পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। অন্য দলটি বিদায় নেবে অপূর্ণতার বেদনা নিয়ে। লড়াই শুধু ৯০ মিনিটের নয়, সাহস, কৌশল, ধৈর্য এবং স্বপ্নেরও লড়াই।
ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চার দশকের পুরোনো এক স্মৃতি। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে শেষ চারে উঠেছিল বেলজিয়াম। সেই হার আজও স্প্যানিশ ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে গেঁথে আছে। প্রায় চল্লিশ বছর পর আবার বিশ্বকাপের শেষ আটে দেখা। এবার কি প্রতিশোধ নেবে স্পেন, নাকি ইতিহাস আবারও বেলজিয়ামের পক্ষেই হাসবে?
পরিসংখ্যান স্পেনের দিকেই ঝুঁকে আছে। দুই দলের ২৩টি মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের জয় ১২টি, বেলজিয়ামের মাত্র ৫টি। ছয়টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পরিসংখ্যান খুব কমই শেষ কথা বলে। একটি ভুল, একটি নিখুঁত পাস ,একটি জাদুকরী মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ইতিহাস।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন এই বিশ্বকাপে শিল্প আর শৃঙ্খলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। বল দখল, দ্রুত পাস, নিখুঁত প্রেসিং এবং প্রতিপক্ষকে ধৈর্যের সঙ্গে ভেঙে ফেলার যে দর্শন স্পেনের ফুটবলের পরিচয়, সেটাই আবারও দেখা যাচ্ছে এই দলে। তারা ম্যাচ জিতছে না, নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বও প্রতিষ্ঠা করছে।
পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা স্পেন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দলের প্রতিটি বিভাগ যেন একে অন্যের পরিপূরক। রক্ষণে দৃঢ়তা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণে সৃজনশীলতা স্পেনকে ভাঙা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন।
