
আজকাল চারপাশে তাকালে খুব সহজেই শোনা যায় এক বুক হতাশা আর জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে হেরে গিয়ে কারো না কারো আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার খবর। কেউ পারিবারিক কলহে, কেউ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে, কেউ ক্যারিয়ারের মানসিক চাপে আবার কেউ সম্পর্কের টানাপোড়েনে জীবনের ইতি টানছেন।
কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যায়, সাময়িক কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার এই একটি ভুল সিদ্ধান্ত কতগুলো মানুষের জীবনকে চিরদিনের জন্য অন্ধকারে ডুবিয়ে দেয়।বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যে মানুষটি আত্মহত্যা করে, সে হয়তো ক্ষণিকের জন্য নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি খোঁজে। কিন্তু তার পেছনে রেখে যাওয়া বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন এবং প্রিয়জনদের জন্য দিয়ে যায় আজীবনের কান্না, এক বুক শূন্যতা আর অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা।
একটি আত্মহত্যা শুধু একটি প্রাণের অবসান ঘটায় না বরং একটি আস্ত পরিবারের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, শেষ করে দেয় ভবিষ্যতের বহু আশা-আকাঙ্ক্ষা।বাস্তবতা হলো, জীবন মানেই এক অবিরাম সংগ্রাম। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সফলতা আর ব্যর্থতা সবকিছু মিলিয়েই মানুষের জীবন।
পৃথিবীর কোনো মানুষই সমস্যামুক্ত নয়। আজ যে সমস্যাটিকে চোখের সামনে পাহাড়সম মনে হচ্ছে, সময়ের আবর্তে হয়তো কিছুদিন পর সেটিই স্রেফ একটি অতীত স্মৃতিতে পরিণত হবে। তাই জীবনের কঠিনতম সময়েও নিজেকে কখনো একা ভাবা উচিত নয়। মন খারাপ বা হতাশা চরম আকার ধারণ করলে পরিবারের সাথে কথা বলা, বন্ধুদের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কাউন্সিলর বা বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
মনে রাখা প্রয়োজন, অন্ধকার রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন, ভোর একদিন আসবেই। প্রতিটি গভীর হতাশার পরেই লুকিয়ে থাকে নতুন আশার আলো। আর আত্মহত্যা মানুষের সেই আলো দেখার সব পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়।সমাজ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এখনই সময় আত্মহত্যাকে ‘না’ বলার। আমাদের চারপাশের হতাশ ও একাকী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, তাদের ভেঙে পড়া বুকে সাহস জোগাতে হবে।কারণ একটি সুন্দর কথা, একটি আন্তরিক সহযোগিতা কিংবা একটু সহানুভূতির হাত হয়তো একটি মূল্যবান জীবনকে বাঁচিয়ে দিতে পারে।জীবন আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত ও উপহার। তাই কষ্ট যতই আসুক, ভেঙে না পড়ে জীবনের জন্য লড়াই করাই আসল বীরত্ব।
প্রতিটি জীবনেরই একটি সুনির্দিষ্ট মূল্য আছে এবং প্রতিটি মানুষের জন্যই অপেক্ষা করে একটি সুন্দর নতুন সকাল। আসুন, আমরা নিজে ধৈর্য ধারণ করি, হতাশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং প্রতিটি জীবনকে ভালোবাসতে শিখি।
