
রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকা থেকে ডেকে নিয়ে সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি, অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তার ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম (পিআরএফ), রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরাম (আরআরএফ) ও কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা। পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন চারটির নেতারা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলু ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য এবং জাতীয় দৈনিক ‘এদিন’-এর বিশেষ প্রতিনিধি। তিনি পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের (পিআরএফ) সাবেক দপ্তর সম্পাদক, রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরামের (আরআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার (সিজেএফডি) সাবেক যুগ্ম সম্পাদক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে ডিআরইউ, পিআরএফ, আরআরএফ ও সিজেএফডির নেতারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলে অপহরণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি।
ভুক্তভোগী গত বাবলু গত মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে অপহরণের মামলা করেছেন।
মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ‘মামুন শেখ’ নামে একটি আইডির সঙ্গে কামরুজ্জামান বাবলুর পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা হলেও একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হিসেবে পরিচয় দেন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি বিটকয়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ দেওয়ার কথা বলেন।
ভুক্তভোগী বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসার কথা জানিয়ে মামুন শেখ সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাবলুকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। সাংবাদিক তাকে অফিসে আসতে বললেও মামুন জানান, তিনি জুরাইনে আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন। পরে জুরাইনে এসে দেখা করার অনুরোধ করলে কামরুজ্জামান বাবলু সেখানে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটার দিকে পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন আলম মার্কেটের সামনে তাদের দেখা হয়। এ সময় মামুন তার বন্ধু ‘অনিক’ নামে একজনের সঙ্গে সাংবাদিককে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার কথা বলে তাকে একটি মাইক্রোবাসের কাছে নেওয়া হয়। প্রথমে গাড়িতে উঠতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের পীড়াপীড়িতে তিনি গাড়িতে ওঠেন।
কামরুজ্জামানের ভাষ্য, গাড়ির ভেতরে আগে থেকেই আরও তিনজন অবস্থান করছিলেন। তিনি গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রের মুখে তাকে চুপ থাকতে বলা হয়। পরে তার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গাড়িটি নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশে রওনা হয় অপহরণকারীরা।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা গাড়িতে রাখার পর তাকে একটি গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মাগরিবের আজান হচ্ছিল। চারপাশে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা পাহারা দিচ্ছিলেন। সেখানে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়।
এ সময় তার মোবাইল ফোন, ব্যাংকের কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পল্টন থানার এসআই তুষার দেবনাথ বলেন, অপহরণ ও জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করতে থানায় এসেছিলেন। তাকে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
