
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর তার দলীয় মহাসচিব পদে আসছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দল থেকে একাধিক নাম থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের অনানুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন বিষয়ে অবগত বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন। তিনি মির্জা ফখরুলকেই বেছে নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলেছেন।
দুই নেতাই বলেন,অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেও পরিবর্তন আসা সম্ভব। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সর্বশেষ বৈঠকে স্থায়ী কমিটির নেতারা রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেন। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়,নিশ্চিতভাবে তাদের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি । তফসিল অনুযায়ী, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।
এক আপোষহীন যোদ্ধার নাম রুহুল কবির রিজভী:রাজনীতিতে হার না মানা এক আপোষহীন যোদ্ধা রুহুল কবির রিজভী ।এরশাদ বিরোধী ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-বিডিআরের ছোঁড়া থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি যার পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ ভেদ করে চলে গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চরম দমন পিড়ন ও গ্রেপ্তারের মাঝেও তিনি রাজপথে নিজেকে মেলে ধরেছেন অনন্য মহিমায়। রাজনীতির মাঠে কখনো পাওয়া না পাওয়ার হিসাব রিজভীকে দমাতে পারেনি। রাজনীতিতে “কমিটমেন্ট” শব্দটা ভাইয়ের হৃদয়ে বড়ই প্রকট, যে কারণে আন্দোলনের দিনগুলোতে তিনি হরতাল বা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে সীমাবদ্ধতার ভেতরেও (তখন অনেক নেতাই ফোন বন্ধ রাখতো)ঘরে না বসে থেকে যতটুকু পেরেছেন লোক বল নিয়ে রাজপথে থেকেছেন। প্রায় প্রতিদিন মিছিল করে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন। শুধু ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে কারাভোগ করেছেন ৯বার। এরমাদ বিরোধী আন্দোলনে কারােভোগ করেছেন ৭বার। আপোসহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যতদিন কারান্তরীন ছিলেন, রিজভী ভাই ঘোষণা দিয়েছিলেন পার্টি অফিসকে আগলে রাখবেন,তিনি তার কথা থেকে বিচ্যুত হননি।১৫, ১৬,১৭, ১৮, ১৯, ২০ এই সালগুলোতে পার্টি অফিসের সামনে কেউ গেলেই ডিবি পুলিশ তাদেরকে তুলে নিত, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রয়োজন ছাড়া অফিসের দিকে আসতেন কম। কিন্তু সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মী পার্টি অফিসে এসে সব সময় রুহুল কবির রিজভীকে পেয়েছেন।১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে দল যখন সংস্কারপন্থীদের খপ্পরে পরে সে সময়ও তিনি দলের হাল ধরেন। তার অবদান লিখলে হয়তো একটা পান্ডুলিপি হয়ে যাবে।এক কথায় বলা যায়, বিএনপির রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম রুহুল কবির রিজভী।
