
রাজধানী ঢাকার মিরপুর পল্লবীতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।
ক্লাস টু-তে পড়া নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার মা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরে শুরু হয় আতঙ্ক—রামিসাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রথমে সবাই ভেবেছিল, হয়তো পাশের বাসায় খেলতে গেছে। কিন্তু সময় গড়াতে থাকে, আর ফিরে আসে না ছোট্ট মেয়েটি। প্রতিবেশীদের নিয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের সামনে পড়ে থাকা একটি স্যান্ডেল সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে। দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখা যায়, তা যেকোনো মানুষকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো। খাটের নিচে পাওয়া যায় রামিসার নিথর দেহ, আর পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার হয় তার মাথা। এই নৃশংসতার পেছনে অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে সোহেল রানার নাম, যিনি পেশায় রিকশা মেকানিক। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালালেও পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
একটি নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন বর্বরতা শুধু একজন অপরাধীর নয়, পুরো সমাজের বিবেকেরও পরীক্ষা।
আজ প্রশ্ন একটাই—আমাদের শিশুরা, বিশেষ করে মেয়েরা, কোথায় নিরাপদ?
যতদিন না এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন এ ধরনের নৃশংসতা থামবে না।
একটি জীবন চলে গেছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে অসংখ্য।
রামিসার জন্য বিচার চাই।
শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ চাই।
অপরাধীদের জন্য কঠোরতম শাস্তি চাই।
