
পেশার নামে কি অমানবিকতা সাজে?
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (Medical Representatives) সাথে ঘটে যাওয়া কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও দেখে একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে লজ্জিত বোধ করছি। বিশেষ করে তাদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে যেভাবে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে বা ক্যামেরা দেখে তাদের দৌড়ে পালানোর দৃশ্যগুলো আমাদের সমাজের এক নিষ্ঠুর চিত্র তুলে ধরেছে।
সত্যিটা কি আমরা জানি?
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় প্রতিটি মানুষই মাস্টার্স কমপ্লিট করা একেকজন উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট।
সংগ্রাম: বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে তারা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন।

বাধ্যবাধকতা: তারা শখের বসে ডাক্তারদের পেছনে ঘোরেন না; কোম্পানির টার্গেট এবং চাকরির বাধ্যবাধকতাই তাদের সেখানে নিয়ে যায়।
একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, সাংবাদিকতা বা অন্য যেকোনো পেশার নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদাবাজি বা অসদুপায় অবলম্বন করে, তাদের চেয়ে এই পরিশ্রমী মানুষগুলো হাজার গুণ বেশি সম্মানের। ঘাম ঝরিয়ে উপার্জন করা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং শিক্ষিত হয়েও একজনকে চোরের মতো পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য করাটা আমাদের সিস্টেমের ব্যর্থতা।
সিস্টেমের ত্রুটি থাকলে ঔষধ কোম্পানিগুলোর নীতিমালার বিরুদ্ধে কথা বলুন, সংস্কারের দাবি তুলুন। কিন্তু দয়া করে এই শিক্ষিত ও পরিশ্রমী মানুষগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করবেন না। তাদের আত্মসম্মানে আঘাত করা কোনোভাবেই সুস্থ সাংবাদিকতা বা মানবিকতার লক্ষণ হতে পারে না।
একজন গ্র্যাজুয়েট যখন পেটের দায়ে এই পেশা বেছে নেয়, তখন তাকে সমাজ থেকে সহযোগিতা দেওয়া উচিত, অপমান নয়।
— মেহেদী হাসান মুরাদ
সাংবাদিক
দৈনিক সময়ের কাগজ/এমকে নিউজ
