
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য নিয়ে অনেক মুসলমানের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ, ইসলামে নবী-রাসূলগণ মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আদর্শ। তাঁদের সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা, জ্ঞান ও সম্মান বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
যদি কোনো ব্যক্তি বা বক্তা এমন কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন যা নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কেরাম বা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়, তাহলে সেটি অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যাচাই করা উচিত। আবেগের বশবর্তী হয়ে বা কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন দেখাতে গিয়ে ইসলামের ইতিহাস ও মহান ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে অনুপযুক্ত মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্বের অমুসলিম মানুষ যখন ইসলাম সম্পর্কে জানতে চায়, তখন তারা মুসলমানদের বক্তব্য, আচরণ ও উপস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেয়। তাই এমন কোনো মন্তব্য যা ইসলামের সৌন্দর্য, নবী-রাসূলদের মর্যাদা বা সাহাবাদের সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তা ভুল বার্তা দিতে পারে এবং মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তা শালীনতা, জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করতে হবে। ব্যক্তি বা দলের প্রতি আনুগত্য কখনোই সত্য ও ইসলামী আদর্শের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। একজন মুসলমানের প্রথম পরিচয় হলো সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যকারী।
সুতরাং, এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ, নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা এবং ইসলামের মূলনীতির আলোকে বিষয়টি মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে সকলের উচিত এমন ভাষা ও বক্তব্য পরিহার করা, যা ইসলামের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে পারে বা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণার জন্ম দিতে পারে।
লেখা___ এস এম আতাউর রহমান।
