
জাহিদ হাসান প্রিন্স তার পেজে একটা পোস্ট দিয়েছে, দুই বছর আগেও বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের লিডার যাকে বলা হতো সেই তাসকিন আহমেদ এখন একাদশে চান্স পাবেন কিনা এটা নিয়ে বিতর্ক হয়।
কেন এমন হলো? এটার কারণ শুধু এটা না যে, আমরা অসাধারণ কতগুলো ফাস্ট বোলার পেয়ে গেছি। আপনি যদি ২০২২ পর্যন্ত দেখেন তাহলে তাসকিনের যে সামর্থ ছিলো; সে নাহিদ রানা, শরিফুল, সাকিব যে কারো সাথে লড়াই করার যোগ্যতা রাখত। কিন্তু কি হলো আসলে তাসকিনের?
প্রথমত আমরা বলি যে তাসকিন কি খারাপ করছে? হ্যাঁ টি-টোয়েন্টিতে উইকেটও পাচ্ছে না, ইকোনমি প্রায়শই ১০ পার করছে। ওয়ানডেতে হুটহাট করে তিনটা উইকেট চারটা উইকেট পাচ্ছে কোন কোন ম্যাচে। ইকোনমি ফ্লাকচুয়েট করছে। কিন্তু আলাদা করে নিজেকে চেনাতে পারছে না। কোন ইউএসপি নেই যেন।
পেস বোলারের তিনটি ধরন। এক্সপ্রেস বোলারদের ইউএসপি হচ্ছে র পেস। যেমন নাহিদ রানা। ক্রেডিট গোজ টু নাহিদ রানা সে সঙ্গে আরও কিছু ইউএসপি যোগ করেছে এবং করছে। আবার দ্বিতীয় আর একটা দল মুভমেন্ট নির্ভর; সিম, রিভার্স, এয়ার, কাটার। তিন নম্বর ডিসিপ্লিন।

পেসও মারাত্মক নয়, ভয়ানক মুভমেন্টও নয়; কিন্তু রোবটিক ডিসিপ্লিন নিয়ে বল করে যাবে। গ্লেন ম্যাকগ্রার আত্মীয় স্বজনরা।
তাসকিন ক্যারিয়ারের শুরুতে এক নাম্বার গোত্রের লোক ছিল। সে রেগুলার ১৪৫ থেকে ১৪৭ হিট করত। ১৪৯ হচ্ছে তার সর্বোচ্চ পেস; যদি ভুল করে না থাকি। তাসকিনের তখন স্বপ্নই ছিল ১৫০ হিট করা।
কন্ট্রোল কিন্তু খুব মারাত্মক ছিল না, খুব ডিসিপ্লিন ছিল না। সেটা তো তার পরিণতি দেখে বুঝেন। ২০১৯ এর আগ পর্যন্ত সে কথায় কথায় ইনজুরিতে পড়ত। একটা বিশ্বকাপ মিস করলো। যখনই কোন একটা সময় ভালো করতো, কিছুদিন পরই ক্রাচ হাতে ঘুরতো।
তাসকিন একটা বৈপ্লবিক কাজ করল করোনার সময়। সে একঝাঁক বিশেষজ্ঞ নিয়ে লকডাউনের সময়টায় একটা বৈপ্লবিক ট্রেনিং করল। জাকি ভাই ছিলেন ওর কোচিং টিম লিডার। টিমে সুজন চাচা, একজন মনোবিদ, ফিজিও দেবাশীষ ছিলেন।
ওখানে বায়োমেকানিক্যাল কিছু চেঞ্জ আনা হয়েছে। জাকি ভাই ছিলেন বায়োমেকানিক বিশেষজ্ঞ পেস বোলিং কোচ। তিনি রিলিজ পয়েন্টে চেঞ্জ আনলেন, ডিসিপ্লিন্ড করলেন প্রচণ্ড। কিন্তু এটা করতে গিয়ে তাসকিনকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হলো যে, আমি আর ১৫০ এর দিকে ছুটব না। ১৪০ এর আশেপাশেই আমাকে থাকতে হবে।
আমরা দেখলাম যে ২০২০ এর দিকে এসে সে ১৪০ খুব একটা টাচ করে না। মূলত ১৩৫/১৩৭ এ বল করে যায়; কিন্তু চ্যানেলে বল করে। প্রচণ্ড ডিসিপ্লিন তখন। তাসকিনের ফিটনেস দেখলে আমরা অবাক হয়ে যাই। মানে সে এক নাম্বার গ্রুপ থেকে ঝট করে তিন নাম্বারে চলে আসল। সঙ্গে সে দুই নাম্বারের কিছু বৈশিষ্ট্য অ্যাচিভ করল।
মাশরাফির সঙ্গে কিছুদিন সেশন করল করে কাটার করা ভালো শিখল। পিন পয়েন্ট ইয়র্কার এবং ওয়াইড ইয়র্কার দেয়া শিখল। মানে সে দুই-তিন এই ক্যাটাগরির বোলার হয়ে গেল।
এখন দেখেন এই যে দুই/তিন নম্বর ক্যাটাগরির বোলার এদের কিন্তু মূল অ্যাসেট ফিটনেস। সব পেসারেরই মূল অ্যাসেট ফিটনেস। ফিটনেস একটু এদিক ওদিক হলেই আপনি আর কেউ না।
তাসকিনের ক্ষেত্রে সেই ঘটনাটা ঘটছে গত দুই বছর। মাঠের বাইরে তাসকিন নানা কারণে আলোচ্য হয়ে উঠছে। সেগুলোর প্রভাব মাঠে পড়ছে।
তাসকিনের শরীর দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এখন। তাসকিনের শরীরটা আপনাকে বলবে, সে আর আগের মতো ফিট নাই। সে বল ডেলিভারির পরে হাফায়, সেকেন্ড স্পেলে তার বল করতে খুব কষ্ট হয়। এবং তার পেটটা একটু সামনে এগিয়ে গেছে।
সেটার কারণেই তার হেড পজিশন নড়বড়ে হয়ে গেছে, রিস্ট পজিশন ফল করে যাচ্ছে, কোমর এবং শোল্ডার একসঙ্গে ওপেন হয়ে যাচ্ছে। লাইফ ডিসিপ্লিনের অভাব তার বোলিং ডিসিপ্লিন কেড়ে নিয়েছে। ফলে সে ‘ফ্রম লিডার অফ দা পেস গ্রুপ’ থেকে বাদ পড়ার আলোচনায় চলে এসেছে।
তাহলে কী তাসকিন শেষ? না, ম্যাটার অফ ফিফটিন ডেজ। তাসকিন যদি ঠিক করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমি আবার ফিটনেস এবং লাইভ ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে নিয়ে আসব; সেটা সম্ভব। আগে সে করে দেখিয়েছে।
আবার দেখাবেন, হিরো?
