
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন এক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উয়েফার মহাসচিব থাকাকালীন তার এক ‘প্রেমিকাকে’ টাকা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সংস্থা থেকে।
৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো এখন ফিফা সভাপতির পদ ধরে রাখার জন্য কঠিন লড়াই করছেন। এর মধ্যেই তার উয়েফার সময়কার আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের বিস্তারিত
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার এক নারী কর্মী ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এমবিএ পড়ার খরচও দেওয়া হয়েছিল তাকে।
চার সন্তানের বাবা এবং বিবাহিত ইনফান্তিনো তখন উয়েফার মহাসচিব ছিলেন। অভিযোগ, ওই সম্পর্ক চলাকালীন সময়েই ওই জুনিয়র কর্মীকে ব্যবস্থাপনা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
জানা যায়, উয়েফার তৎকালীন সভাপতি মিশেল প্লাতিনি এই সম্পর্ক নিয়ে ইনফান্তিনোকে প্রশ্ন করেছিলেন। এরপরই ওই নারী কর্মী একটি বড় অংকের অর্থ নিয়ে সংস্থা ছেড়ে চলে যান।
উয়েফার বক্তব্য
উয়েফার একজন মুখপাত্র পত্রিকাটিকে বলেন, ‘আমরা এই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছি এবং নিশ্চিত করতে পারি যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে একটি বিদায়ী অর্থ প্রদান করা হয়েছিল, সঙ্গে একটি স্থানীয় বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফি-ও দেওয়া হয়েছিল। তখনকার নিয়ম অনুযায়ীই এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল।’
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে উয়েফার এই ধরনের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। বর্তমান কর্মী বিধিমালা, যা সব স্তরের উয়েফা কর্মীর জন্য প্রযোজ্য, তা একটি আধুনিক ও উচ্চ পর্যায়ের সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করে।’ মিরর ফুটবল উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ছে
এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এল, যখন ইনফান্তিনো ইতিমধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে আছেন। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের অংশীদারত্ব বিক্রির গোপন পরিকল্পনা নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। তার সাবেক প্রতিষ্ঠান উয়েফাই এখন তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
যদিও ফিফার একজন মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছেন, এবং এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনুচিত আচরণ বা নিয়মভঙ্গের যেকোনো ইঙ্গিত মানহানিকর।’
মুখপাত্র আরও বলেন, ‘উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনো ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেননি, কারণ এমন কোনো ঘটনাই কখনো ঘটেনি। কর্মীদের সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত, বিদায়ী ও ক্ষতিপূরণ প্যাকেজসহ, সবসময় প্রযোজ্য নিয়ম মেনে যথাযথ কর্মকর্তাদের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।’
ইনফান্তিনো ১৬ বছর উয়েফায় কাজ করেছেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ফিফা সভাপতি হন এবং তখন থেকেই এই পদে আছেন। তিনি ২০০১ সালে লিনা আল আশকারকে বিয়ে করেন। লেবানন ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়।
