
পশ্চিমবঙ্গে (বাংলা) সম্ভবত বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
সারা পৃথিবীর দিকে তাকালে ঘটনাটা খুব বিষ্ময়কর মনে হবে না। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা প্রান্তে ডানপন্থীদের উত্থানপর্ব চলছে। তবে বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার দিক থেকে দেখলে এটা একটা ভয়াবহ বিপর্যয় হতে যাচ্ছে। এই রাজ্যটির চিরকালের একটা সেকুলার, প্রগতিশীল অবস্থান ছিলো উপমহাদেশের রাজনীতিতে।
আধুনিক চিন্তা পথপ্রদর্শক হয়েই যুগে যুগে মাথা উচু রেখেছে বাংলা।
অবশ্য সেই বাংলা বাংলা-ভাষীদের হাতছাড়া বেশ আগেই হয়েছে। তারপরও আজ একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল এখানে ক্ষমতায় এলে সেই বাংলার আনুষ্ঠানিক পতন হবে। সবচেয়ে বিপাক হবে এই রাজ্যের লিবারেল মানুষগুলোর।
কারণ এই ধরণের ডানপন্থী দলের একটা মজা আছে। এরা নিজেদের দেশের ও ধর্মের এজেন্ট মনে করে। ফলে অন্য কারো আর এ নিয়ে কথা বলার অধিকার থাকে না।
আমি ভারতে চিকিতসার জন্য গেছিলাম। কলকাতার নানা ব্যাপার নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছি। দক্ষিনেশ্বরে পুজো দিয়েছি, বেলুড়ে আরাধনা করেছি। আমার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে তাদের প্রশ্ন— তুই শালা ভারত-বিরোধী, হিন্দু বিরোধী; এসব করছিস, লজ্জা করে না!
আমি প্রথমটা বুঝতে পারছিলাম না, আমি ভারত-বিরোধী হলাম কবে? সকাল-সন্ধা শাস্ত্রীয় আচার পালন করে হিন্দু-বিরোধী কবে হলাম? পরে বুঝলাম, অমিত শাহর গুনধর পূত্র জয় শাহর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডর বিরোধিতাটাকে এনাদের কাছে ভারত বিরোধীতা ঠাওর হয়েছে।
এই প্রবনতা দেখবেন বাংলাদেশেও। জামাতের সমালোচনা করলে সেটাকে এভাবেই ব্যাখ্যা করে।
এদের কাছে ইন্ডিয়ার ক্রিকেট মানে জয় শাহ, গৌতম গম্ভীর; তাদের ইতিহাসে ডালমিয়া, সালভে সাহেব বা শশাঙ্কজির কোন স্থান নেই। এদের ইন্ডিয়ার শুরু বাজপেয়ী সাহেবের যুগে; সেখানে গান্ধীজি, নেতাজি থেকে এই শশী থারুরের কোনো স্থান নেই। তাই অনায়াসে তারা স্বামী বিবেকানন্দকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ব্যাঙ্গ করেও নিজেদের হিন্দুত্বের এজেন্ট বলে দাবি করতে পারে। এদের কাছে হিন্দুত্ব মানে সংঘ পরিবার; বেদান্ত দর্শন নয়।
আপাতত বাংলার চিরকালীন সেকুলারদের সম্ভবত সংঘ পরিবারের হিন্দুত্ব শিখতে হবে। এবং নতুন ইন্ডিয়ান হতে হবে।
বেস্ট অব লাক, পশ্চিম বাংলা।
