
ধর্ষণসহ গুরুতর যৌন অপরাধে জড়িতদের অপরাধপ্রবণতা কমাতে ‘কেমিক্যাল ক্যাসট্রেশন’ বা রাসায়নিকভাবে যৌন সক্ষমতা কমানোর চিকিৎসা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে সিঙ্গাপুর সরকার। তবে এ পদ্ধতি অপরাধ কমাতে কার্যকর কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার সংসদে লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. শানমুগাম বলেন, কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার এ ধরনের চিকিৎসা বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
এদিকে শিশু ও তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন আরও পেশায় নিয়োগের আগে প্রার্থীদের যৌন অপরাধসহ অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছে সিঙ্গাপুর। বর্তমানে যেসব খাতে এ ধরনের বাধ্যতামূলক যাচাই নেই, সেসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছামূলক স্ক্রিনিং চালু করা হবে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী গোহ পেই মিং জানিয়েছেন, বর্তমানে পূর্ণকালীন মসজিদকর্মী, অনুমোদিত ধর্মীয় শিক্ষক, স্কুল ও প্রিস্কুলের কর্মী এবং নিবন্ধিত কোচদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের যাচাই করা হয়।
শানমুগাম বলেন, গুরুতর যৌন অপরাধের জন্য সিঙ্গাপুরে এরই মধ্যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। গত জুলাইয়ে নতুন একটি সাজা ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার আওতায় পুনরায় অপরাধ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেন এবং গুরুতর সহিংসতা বা যৌন অপরাধ করেছেন এমন অপরাধীদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় এসব অপরাধীকে পাঁচ থেকে ২০ বছরের জন্য ন্যূনতম একটি মেয়াদে আটক রাখা হবে। জনসাধারণের জন্য তারা আর হুমকি নন এমন মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্তি দেওয়া হবে না।
সিঙ্গাপুরে ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জরিমানা বা বেত্রাঘাতের শাস্তিও দেওয়া হয়।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
