
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা যুক্তরাষ্ট্র কখনও ভুলবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানে হামলার মাধ্যমে ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পেন্টাগনে ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তবে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পেন্টাগনের বক্তব্যে তিনি দেশের অভ্যন্তরের উগ্রপন্থীদেরও সমালোচনা করেন, যা ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, আজ আমরা সেই পবিত্র অঙ্গীকার আবারও করছি, যা এক প্রজন্ম আগে তাদের নামে শপথ করেছিলাম। আমরা কখনো, কোনোভাবেই ভুলব না। আর এ কারণেই আজ আমরা লড়াই করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোনো বিকল্প নেই। জয় ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। আমরা কঠোরভাবে লড়ি। জয়ের জন্যই লড়ি।
৯/১১ হামলার সময় ছিনতাই করা বিমানগুলোর একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করেছিল। এতে ১৮৪ জন নিহত হন। অনুষ্ঠানে নিহতদের নাম পাঠের সময় তাদের স্মরণে একটি ঘণ্টা বাজানো হয়।
তবে অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ৯/১১-এর গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকীগুলোতে একাধিক স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্কও রয়েছে, যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হয়েছিল।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে শুরু হওয়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের যোগসূত্র টানেন। ইরান যুদ্ধ এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আজ আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে সম্মান জানাই, যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি অসুস্থ, ভয়াবহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
তিনি বলেন, আমরা সেইসব সেনাসদস্যকে সম্মান জানাই, যারা এখন কাজ করছেন যাতে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।
পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ইরানের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, গত ছয় মাসে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছি। আমাদের যোদ্ধারা এমন একটি ইসলামী ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, যারা প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে আমাদের মৃত্যুকামনা করে আসছে।
তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বর্তমানে অনেকটা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত পাল্টাপাল্টি হামলা চললেও ইরান এখনো মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
৯/১১-এর এক প্রজন্ম পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় শুধু বিদেশের কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
এর এক দিন আগে অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রিপাবলিকান কনভেনশনে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডেমোক্র্যাটদের ৯/১১ হামলাকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে অভিযুক্ত করেছিলেন।
পেন্টাগনের বক্তব্যে ট্রাম্প হামলায় নিহত এক দমকলকর্মীর কথা তুলে ধরেন। ওই দমকলকর্মীর ছেলে পরবর্তী সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।
ট্রাম্প বলেন, ওই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, আমরা এমন একটি জাতি হতে পারি, যেখানে আমাদের বীরেরা কোনো বিমূর্ত উদ্দেশ্যের উন্মাদ অনুসারী নন।
সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
