
আমার মতো একজন সাধারণ মানুষের কাছে ইয়াবা আর গাঁজার এক্সেস আছে। অর্ডার করলে বাসার নিচে এসে দিয়ে যাবে। মানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এনএসআই, সেনাবাহিনী সবার কাছে এসে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন এর এক্সেস আছে। তারা চাইলেই ফাঁদ পেতে, ইনটেলিজেন্স দিয়ে, ট্র্যাক করে সব ডিলারকে গণগ্রেপ্তার করতে পারে। চাইলে গাঁজাসেবী, ইয়াবাসেবীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে। গাঁজা, ইয়াবার সাপ্লাই চেইন নষ্ট করে একেক পিস ইয়াবার দাম ২০০০ টাকা করে ফেলতে পারে।
বাঙলাদেশে কোকেইন কোন সমস্যা না। দাম অনেক বেশি। গুলশানে কোকেইন অ্যাবিউজ় এমনিতেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য না। গণপরিসরে ক্রিস্টাল মেথ, মদ, এলএসডি বড় সমস্যা না।
কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরে আপনি চাইলে ২০ টাকা দিয়ে নেশুট্টি হতে পারবেন। এমনকি টাকা না থাকলে শুধু নেশার সার্কেলের পিছনে ঘুরে ঘুরে, হাত কচলে, বড় ভাইদের পায়ের তালু চেটে আপনি ফ্রিতে নেশা করতে পারবেন। আমেরিকাতে কেউ আপনাকে মাগনা একটা স্টিকও দিবে না। বাঙলাদেশে আপনি মাসের পর মাস লাইফলেস হয়ে ফ্রিতে নেশা করতে পারবেন। এই দেশে ভাত না পাওয়া গেলেও দুইবেলা দু’ মুঠো গাঁজা, ইয়াবার নিশ্চয়তা আছে।
সোহেল সত্যিই খারাপ লোক। কিন্তু আমি মনে করি না – ইয়াবার নেশা ছাড়া সে এমন বিকৃত রুচির কাজ করতে পারতো। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে নেশা করে রামিসাকে ধর্ষ/ণ ও হ/ত্যা করেছে। সে একা দায়ী না। তার এলাকার ওসি দায়ী। তার এলাকার ডিসি দায়ী। তার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। বিজিবির মহাপরিচালক দায়ী। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দারা দায়ী। এই দেশের প্রধানমন্ত্রীও দায়ী।
গ্রামের এখন প্রায় ৪০% ছেলে নেশা করে। জুয়া খেলে। শহরে এই হার ২০%। মব করা, ক্যারিয়ার ধ্বংস করা, অলস হয়ে যাওয়া, মাকে থাপড়ানো, বাবাকে লাত্থানো, ধর্ষ/ণ, চুরি, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের উপর ভ্যাট ট্যাক্সের বোঝা বেড়ে যাওয়া পর্যন্ত সমস্যাগুলোর জন্য গাঁজা, ইয়াবা আর অনলাইন জুয়া দায়ী।
রামিসার মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে সরকারের দায় আছে। আমার বন্ধুদের ক্যারিয়ার নষ্ট হওয়ার জন্য সরকারের দায় নিতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
-ইরফান শেখ
