
পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান জীবনের শেষ সময় কাটিয়েছিলেন গৃহবন্দি অবস্থায়। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তার স্ট্রোক হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৮০ সালে তার মৃত্যু ঘটে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ইয়াহিয়া খানের নাম সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত ও সমালোচিত ১৯৭১ সালের গ/ণ/হ/ত্যা/র কারণে। তার শাসনামলেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ভয়াবহ সামরিক অভিযান চালায়, যেখানে নিহত হন অগণিত মানুষ।
ইরানের সংবাদপত্র কায়হান ইন্টারন্যাশনাল–এর সাংবাদিক আমির তাহেরি ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল গেস্ট হাউসের কাছাকাছি এলাকায় থাকতেন। ১৯৭২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক লেখায় তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের সময় ইয়াহিয়া খান স্নায়ুচাপ সামলাতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই লিটার পর্যন্ত মদ পান করতেন।
ইয়াহিয়ার পারিবারিক ইতিহাস নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে।
তার বাবা সাদাত আলি খান ব্রিটিশ আমলে পাঞ্জাব পুলিশের সদস্য ছিলেন। করাচিভিত্তিক আখবার-ই-জাহান ম্যাগাজিনের সম্পাদক মাহমুদ শাম একসময় দাবি করেছিলেন, ১৯৩১ সালে ভগত সিং, রাজগুরু ও সুখদেবকে ফাঁ/সি দেওয়ার পর তাদের মরদেহ গোপনে পু/ড়ি/য়ে ফেলার কাজে ব্রিটিশরা সাদাত আলি খানের সহায়তা নেয়।
বলা হয়, পাঞ্জাবের ফিরোজপুর এলাকায় শতদ্রু নদীর তীরে গোপনে সেই কাজ সম্পন্ন করার পর তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং “খান” উপাধিও দেওয়া হয়।
তবে ইয়াহিয়া খানের শুরুর জীবন ছিল ভিন্ন ধরনের।
অসাধারণ মেধাবী না হলেও তিনি পড়াশোনায় ভালো করার চেষ্টা করতেন, ছিলেন একজন পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। ১৯৩৯ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
১৯৫১ সালে জেনারেল আইয়ুব খান তাকে ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত করেন। পরে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর জেনারেলদের একজন হয়ে ওঠেন।
সহকর্মীদের অনেকেই যখন মদ্যপান ও পার্টিতে সময় কাটাতেন, তখন ইয়াহিয়া নাকি নিয়মিত রাত আটটার মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে চলে যেতেন। কিন্তু পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার জীবনযাত্রা বদলে যেতে শুরু করে।
ক্ষমতা, রাজনৈতিক সংকট এবং ১৯৭১ সালের রক্তাক্ত ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত তাকে ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত সামরিক শাসকে পরিণত করে।
