
বদলিতে কনস্টেবল পদে প্রায় ১ লাখ টাকা, এসআই পদে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ
নিজস্ব প্রতিনিধি ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে পদায়ন (পোস্টিং) বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্যের বরাতে পোস্টটিতে দাবি করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি বা পোস্টিং পেতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, কনস্টেবল পদে পোস্টিং পেতে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। আর সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে এই অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে। অভিযোগে আরও বলা হয়, শুধু আবেদন করলেই কাঙ্ক্ষিত পোস্টিং পাওয়া যায় না; বরং অর্থ লেনদেনই এখানে মূল নির্ধারক হিসেবে কাজ করছে।
এছাড়া, ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করে পোস্টিং নেওয়া কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, তারা খরচ করা অর্থ ‘উঠিয়ে নেওয়ার’ চেষ্টা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। ফলে অনেক পুলিশ সদস্য ভয়ে মুখ খুলতে চান না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আড়ালে রয়ে গেছে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
