
চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস নাউ’। সফরটিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে ইতিপূর্বে স্থগিত হয়ে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই খবর নিশ্চিত করেছে গণমাধ্যমটি।
সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করবে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছি। যার অর্থ ১০১টি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার ফলাফল আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।”
২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এরপর থেকে ঢাকা তার হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারত জানিয়েছে, হস্তান্তরের অনুরোধটি বিদ্যমান আইন ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য প্রসার এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ভারতকে ঘিরে অতিরিক্ত আগ্রহ বা ‘মোহ’ থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র: টাইমস নাউ
