
২০২৪ সালে ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ফলে ২০২২ সালের পর আর বাংলাদেশ সফরে আসেনি ভারতীয় ক্রিকেট দল। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের নির্ধারিত সিরিজ কেবল পিছিয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে তাদের সাদা বলের সিরিজ খেলতে ঢাকায় আসার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে বলে জানিয়েছে ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। যদিও এখনো বিসিবির কর্মকর্তাদের আশা– সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের কয়েকজন নেতা দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন। সেটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতকে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে এনে সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষ বিসিবি কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সব ঘটনাপ্রবাহের পর এখন আমি সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। সিরিজের বিষয়ে আমরা ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পাব বলে মনে হয় না। সত্যি বলতে সিরিজটি ২৮ আগস্টের মধ্যেই হওয়ার কথা ছিল। হাতে আর কতদিনই বা আছে?
সিরিজটি পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার তা মনে হয় না। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এ মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত আশা হারাতে চায় না বিসিবি।
এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বিসিবির দূরত্ব বাড়ে। তবে ফেব্রুয়ারিতে বিএনপিশাসিত নতুন সরকার নির্বাচিত হলে গলতে থাকে বরফ। বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের বোঝাপড়ায় সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছিল। তবে বাংলাদেশের সতর্কতা সত্ত্বেও ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন সেই সম্ভাবনাকে আবারও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
