
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সহকারী জজ আদালত পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গতকাল শনিবার এক সেমিনারে তিনি এ তথ্য জানান। দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ আপসযোগ্য, যা সঠিক উদ্যোগ নিলে এক দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। বাকি ২০ শতাংশ মামলা দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সমাধান করা যেতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং এনজিওগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার মামলা নিষ্পত্তি করা। এর মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে সামগ্রিক মামলাজট উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার ব্যবস্থায় বিদেশি দাতা সংস্থার ফান্ডের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ থেকে ২০ লাখে নামিয়ে আনা গেলে সরকারি লিগ্যাল এইড ফান্ডই জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যথেষ্ট হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। তিনি বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস বক্তব্য দেন। মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
