
জোনাকি চোখে পড়লে এখন মন ভরে দেখে নেওয়ার সময় কারণ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এক চরম বেদনাদায়ক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন যে আমরাই হয়তো পৃথিবীর শেষ প্রজন্ম যারা রাতের অন্ধকারে প্রকৃতির এই অনন্য আলোর খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছি।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএন এবং বিভিন্ন দেশের কীটতত্ত্ববিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী মূলত মানুষের তৈরি তীব্র কৃত্রিম আলোক দূষণ ও বিশ্বব্যাপী কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের কারণেই এই নিশাচর পতঙ্গটি আজ পৃথিবী থেকে দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ভেজা স্যাঁতসেঁতে মাটি ও ঘন ঝোপঝাড় এবং বনাঞ্চল ছাড়া জোনাকিরা বংশবৃদ্ধি করতে বা বেঁচে থাকতে পারে না কিন্তু বর্তমান নগরায়ণের ফলে তাদের এই নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলো প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে যার সাথে যুক্ত হওয়া রাতের শহরের অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো জোনাকিদের নিজস্ব রাসায়নিক আলোর কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে যার ফলে এরা অন্ধকারে নিজেদের সঙ্গী খুঁজে পেতে এবং বংশবিস্তার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।
চিরসবুজ বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তন ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে এখন জোনাকির আলো প্রায় দেখাই যায় না বললেই চলে যার মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম এবং হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কিছু পাহাড়ি এবং গ্রামীণ বনাঞ্চলে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এদের অস্তিত্ব টিকে আছে যার ভয়াবহতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী ইতিমধ্যে জোনাকিদের অফিশিয়ালি বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রকৃতির এই মায়াবী রূপ চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সচেতন হতে হবে।
