
গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালে ভারত প্রতিবেশী দেশটির ১৩টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার পাশাপাশি ১১টি বিমানঘাঁটিতে সফল হামলা চালায় বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডেপুটি চিফ এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী। অপারেশন সিঁদুরের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী বলেন, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে আকাশপথে এবং ভূমিতে মিলিয়ে পাকিস্তানের ১৩টি বিমান ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের রেকর্ড সীমানায় পাকিস্তানের একটি উচ্চমূল্যের এয়ারবোর্ন অ্যাসেট বা আকাশযান ধ্বংস করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ভারতীয় সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি সাধনের যে দাবি পাকিস্তান করে আসছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর উপপ্রধান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম হয়নি। পাকিস্তান ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন যা দিয়েই হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে, ভারত তা প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো আখ্যান বা বাগাড়ম্বর দিয়ে বিজয় অর্জিত হয় না; বিজয় নির্ধারিত হয় অকাট্য তথ্যের মাধ্যমে এবং ভারত সেই সঠিক তথ্যই সবার সামনে তুলে ধরেছে। ভারতীর মতে, এ অভিযানে পাকিস্তান চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কোনো অপকৌশলই কাজে আসেনি।
গত বছরের ৬-৭ মে মধ্যরাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ওই সামরিক অভিযান শুরু হয় পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে, যে ঘটনার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়। অপারেশন সিঁদুরের শুরুতে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের ৯টি স্থাপনার আঘাত হানার দাবি করে ভারত, যেসব স্থাপনাকে তারা ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’ বলে উল্লেখ করে। এর পরদিন পাকিস্তান ভারতের বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করলে ভারত পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানের বেশ কিছু বিমানঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি হামলার পর ১০ উভয়পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে সংঘাতের সমাপ্তি ঘটে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এয়ার মার্শাল ভারতী এ সংঘাত থেকে অর্জিত শিক্ষা সম্পর্কে বলেন, অপারেশন সিঁদুর আকাশ শক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে ফের নিশ্চিত করেছে। এটি সম্মিলিত শক্তি এবং দেশজুড়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্বকেও পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি জানান, এ অভিযানের মাধ্যমে ভারতের আইএসি-সি-সি-এস ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে এবং ভারত এখন শত্রুপক্ষের সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেয়েছে।
