
ভারতেের কর্নাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার ওপর বিগত বিজেপি সরকারের জারি করা বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নিয়েছে বর্তমান কংগ্রেস সরকার। ১৩ মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়।
এর ফলে রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীরা এখন থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গেই হিজাব পরিধান করে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন।কর্ণাটকের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা মন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনেশ গুন্ডুরাও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন সরকারি আদেশটি প্রকাশ করেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী:স্কুল ইউনিফর্মের ক্ষতি বা পরিবর্তন না করে শিক্ষার্থীরা পরিপূরক হিসেবে হিজাব (হেডস্কার্ফ), পাগড়ি (পেটা), জেনিভারা (পবিত্র সুতো), এবং রুদ্রাক্ষ পরিধান করতে পারবেন।কোনো শিক্ষার্থী এই ধরনের ঐতিহ্যগত বা ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেণিকক্ষ কিংবা পরীক্ষা হলে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে না।পোশাকের ব্যবহারে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তকরণের সুবিধার্থে শিক্ষার্থীর মুখমণ্ডল পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে।
২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিজেপি সরকার কর্ণাটকের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব বা সমজাতীয় ধর্মীয় পোশাক পরা নিষিদ্ধ করে একটি আদেশ জারি করেছিল। সেই সময় উদুপি জেলার একটি প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হিজাব পরিহিত মুসলিম ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দিলে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়।
পরবর্তীতে কর্ণাটক হাইকোর্ট বিজেপির সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।২০২৩ সালে কর্ণাটকের ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী কে সিদ্দারামাইয়া হিজাব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ সালের ‘অর্ডার নম্বর ১৪’ বাতিল করার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করল কংগ্রেস সরকার।
