
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করে চাকরিচ্যুত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুনর্বহালে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তাঁর চাকরিতে পুনর্বহাল ও বকেয়া সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে দুদক।
সম্প্রতি দুদকের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকায় শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে ফেরার পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।
২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক কর্মচারী বিধিমালা, ২০০৮-এর ৫৪(২) বিধি অনুযায়ী শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তখন তিনি দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের তদন্ত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন মহল থেকে প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন শরীফ উদ্দিন।
চাকরি ফিরে পেতে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট তাঁর চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা ও বকেয়া সব সুবিধাসহ তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছিল দুদক। তবে সম্প্রতি সংস্থাটি আবেদনটি আর পরিচালনা না করে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে চেম্বার আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
এতে চাকরিচ্যুতির সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পর শরীফ উদ্দিনের চাকরিতে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর হয়েছে।
