
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক আক্রমণ পরিচালনা করে, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি দেশের তেলক্ষেত্র, সমুদ্রগর্ভের ইন্টারনেট কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি স্থাপনায় একযোগে ভয়াবহ আঘাত হানা হবে বলে চরম হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব জেনারেল মহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন সংঘাতের ক্ষেত্রে তেহরানের রণকৌশলে ‘কোনো সীমারেখা’ (Zero Red Lines) থাকবে না। মূলত আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসন এবং নেতানিয়াহু সরকার যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের পর তেহরান তাদের এই নতুন যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা কৌশল উন্মোচন করল।
ইরানের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি খাতের এই লাইফলাইনগুলোর আর্থিক মূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারসহ সাতটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মূল ভিত্তি। ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের অর্থনৈতিক ধমনীতে আঘাত করা হলে শত্রুপক্ষের ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিগত আর্কিটেকচারও কোনোভাবেই নিরাপদ থাকবে না।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পর সরাসরি ইরানের এই সরাসরি হু’মকি পারস্য উপসাগরের সামগ্রিক ডিজিটাল ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
