
সিরিজ নির্ধারনী ৩য় ম্যাচে ১৪৪ রানের মামুলি টার্গেট পায় বাংলাদেশ। কিন্তু যেহেতু দল টা বাংলাদেশ আর খেলা টা ক্রিকেট, তাই একটু দর্শকের আবেগে টান না দিলে কী হয়!
প্রথমত ১৪৪ টার্গেটে শুরুর দিকের তানজিদ তামিম, পারভেজ ইমন, সাইফ হাসান প্রত্যেককেই আনকমফোর্টেবল লেগেছে। আর বিশেষ করে সাইফ হাসান কে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট এর একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তার ব্যাটিং দিন দিন আরও বিরক্তিকর হয়ে উঠছে।
এবার আসল ক্লাইম্যাক্স। ১৪৪ চেজ করতে শেষ ১০ বলে বাংলাদেশের দরকার মাত্র ৭ রান। ক্রিজে সেট ব্যাটার তানজিদ তামিম এবং আগের দুই ম্যাচে ভালো ফর্মে থাকা ইয়াসির রাব্বি। এমন সময় রিচার্ড এনগারাভার বলে কীপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে আউট ইয়াসির রাব্বি। মোসাদ্দেক হোসেন নামার পর শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ৫ রান।
তানজিদ তামিমের সিংগেল এর পর দরকার ৫ বলে ৪ রান। এবার বাংলাদেশী ব্যাটার রা তাদের খেল দেখাতে শুরু করলেন। ব্র্যাড ইভান্সের বলে বোল্ড মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের দরকার ৪ বলে ৪ রান, ক্রিজে আগের ম্যাচে এই ব্র্যাড ইভান্সের ১ ওভারেই ২৮ রান নেওয়া সাইফুদ্দিন।
৪ বলে ৪ দরকার এমন অবস্থায় সাইফুদ্দিন ঠিক কী করতে চাইলেন বোধগম্য হলো না। বল আকাশে উঠিয়ে দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতে চলে গেলেন প্যাভিলিয়নে।
৩ বলে দরকার ৪ রান, ব্র্যাড ইভান্স অন আ হ্যাট্রিক!এরপর নামলেন শাক মাহেদী হাসান এবং ব্র্যাড ইভান্সের বলে তিনিও আউট ই হয়ে যেতেন (২ নং ছবি দ্রষ্টব্য)। বলের লাইন পুরোপুরি মিস করে এলবিডব্লু হয়ে সমীকরণ ২ বলে ৪ এ নামিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন শাক মাহেদী হাসান। তবে তা হলো না আম্পায়ার এর কারণে এবং বলা যায় জিম্বাবুয়ে টিম এর নির্বুদ্ধিতায়। ব্র্যাড ইভান্স বল ছোড়ার আগেই জিম্বাবুয়ের এক ফিল্ডার কে মাঠে চলাফেরা করতে দেখা যায়, যার ফলে আম্পায়ার বল ছোড়ার আগেই বলটিকে ডেড বল হিসেবে গণণার নির্দেশ দেন। এইটা না হলে আজ শাক মাহেদীও ওই বলে আউট হয়ে যেতেন, ব্র্যাড ইভান্স তার হ্যাট্রিক পূরণ করতেন এবং ৩ বলে ২ এর মতো ৬ বলে ৫ এর আরেকটা ট্র্যাজেডি লেখা হতো বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে (ভারতের সাথে সেই ৩ বলে ২ এর ম্যাচেও টার্গেট বোধহয় ছিল ১৪৫)।
দিস ইজ বাংলাদেশ । ক্ল্যাসিক বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। আসলে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট এর উচিত যেকোনো টি২০ তে রান চেজিং এর সময় ২০ ওভারের খেলা চিন্তা না করে ১৯ ওভারের চিন্তা করা। কারণ শেষ ওভারে ম্যাচ গেলে যত রান ই দরকার হোক, বাংলাদেশ কলাপ্স করবেই। এটাই তাদের ডিএনএ। আর এই নার্ভ নিয়ে কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টে নকআউট ম্যাচ জেতার আশা না করাই ভালো!
