
ফ্রান্সের জার্সিতে মাঠে নামেন, গোল করেন, দলকে জেতান কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলে পাওয়া অর্থ নিজের কাছে রাখেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ফুটবল তারকা ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্স জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া প্রতিটি ম্যাচ ফি ও বোনাস দান করে আসছেন।
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতানোর পরও নিজের প্রাপ্য অর্থ পকেটে তোলেননি এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া সব পুরস্কারের অর্থ তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন।
এমবাপ্পে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমার টাকার দরকার ছিল না। আমি সেখানে দেশের মান রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। আমি ভালো অর্থ আয় করি। তাই যাদের প্রয়োজন, তাদের সাহায্য করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।”
বিশ্বকাপের পরও থেমে থাকেননি তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সংকটে পড়া পরিবারগুলোর সহায়তায় আব্বে পিয়ের ফাউন্ডেশনে বড় অঙ্কের অর্থ দান করেন এমবাপ্পে। পরে তার প্রতিষ্ঠিত সংস্থা মৌরিতানিয়ার শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত শিশু আবুবকরের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অর্থায়নেও সহায়তা করে।
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে স্থায়ী রূপ দিতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এমবাপ্পে চালু করেন নিজের দাতব্য সংস্থা ‘ইন্সপায়ার্ড বাই কেএম’। এই সংস্থার মাধ্যমে প্যারিসের ৯৮ জন শিশুকে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ৯৮ সংখ্যাটি বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ—১৯৯৮ সালেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এমবাপ্পে।
শুধু অর্থ সহায়তা নয়, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকাদের একজন হয়েও নিজের দাতব্য কাজ নিয়ে খুব বেশি প্রচার করেন না এমবাপ্পে। বছরের পর বছর নীরবে নিজের আয় ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবার ও শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন তিনি।
ফ্রান্সের হয়ে মাঠে নামার জন্য অর্থ নয়, দেশের প্রতিনিধিত্বই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়,এমনটাই জানিয়েছেন এমবাপ্পে। আর জাতীয় দল থেকে পাওয়া অর্থ তিনি তুলে দিচ্ছেন এমন মানুষদের হাতে, যাদের কাছে সেই সহায়তা বদলে দিতে পারে একটি জীবনের গল্প।
