
পৃথিবী থেকে অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা এখন শুধু কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা পৌরাণিক কাহিনীতে ব্যক্ত ভবিষ্যৎবাণী নয়, এটি একটি নিশ্চিত ঘটনা – যা হয়তো ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে! নাসা এবং জাপানের তোহো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, মাত্র ১ বিলিয়ন বছরের মধ্যেই বায়ুমণ্ডলের সমস্ত অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যাবে।
পৃথিবীতে অক্সিজেন উৎপাদন হ্রাসের জন্য দায়ী সুর্য। পৃথিবীর জন্মকাল থেকে সময়ের সাথে সাথে সূর্যের তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই তাপ বৃদ্ধি একসময় পৃথিবীকে বাসযোগ্য করলেও একটা সময় পর এই উত্তাপ বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতিরিক্ত উত্তাপে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের অণু বিভাজিত হয়ে যাবে, ফলে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একসময় বন্ধ হয়ে যাবে এবং ডমিনো ইফেক্টের কারণে অক্সিজেন উৎপাদনও থেমে যাবে।
ব্যাপারটা যতটা সহজ শোনায়, বাস্তবে ততটাই ভয়ংকর। অক্সিজেনের অভাবে পৃথিবী মারাত্মক সৌরবিকিরণের (অতিবেগুনি রশ্মি) সামনে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে। গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াই পৃথিবীকে ধীরে ধীরে মরুভূমিতে পরিণত করবে এবং একে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে তার বিলিয়ন বছর পূর্বের দশায় — একটি বিশাল প্রাণহীন পাথুরে গ্রহ।কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য সকল জীবের অক্সিজেনের প্রয়োজন নেই। বায়ু বা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে শ্বসনকার্য সম্পাদন করতে সক্ষম বেশ কিছু অণুজীব হয়তো বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু জটিল জীব, যেমনঃ গাছপালা, পশুপাখি এবং মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে না।বিজ্ঞানীরদের মতে, এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন আগামী ১০,০০০ বছরের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি একবার শুরু হলে আর থামানো যাবে না। বিজ্ঞানী কাজুমি ওজাকি এবং ক্রিস্টোফার রেইনহার্ড বিস্তৃত পরিসরে সিমুলেশন চালিয়ে বের করেছেন পৃথিবীতে এই পরিবর্তন ঘটবে প্রায় এক বিলিয়ন বছর পরে, যদিও এর লক্ষণ দেখা যাবে হাজার খানেক বছর আগেই।
অক্সিজেনহীন এই বায়ুমণ্ডলে মিথেনের পরিমাণ বেড়ে যাবে অস্বাভাবিক ভাবে। কারণ মিথেন, অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে বায়ুমণ্ডল স্থিতিশীল রাখে। যদি অক্সিজেনই না থাকে, তবে মিথেন কার সাথে বিক্রিয়া করবে? এই অনিয়ন্ত্রিত মিথেন বায়ুমণ্ডলকে বিষাক্ত করে তুলবে এবং অবশিষ্ট জীব প্রজাতির ধ্বংসের কারণ হবে।গবেষণাটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দেয় — একটি গ্রহ কতদিন বাসযোগ্য থাকতে পারে? কারণ আমরা দেখতে পাই, পৃথিবী লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আদর্শ বাসস্থান হয়ে থাকলেও, তার সেই ভূমিকারও একটা মেয়াদ আছে। পৃথিবীর এই জীবনচক্র প্রমাণ করে, মহাবিশ্বে কোনোকিছুই চিরস্থায়ী নয়, সবকিছুই ক্ষণিক।
