
চীন ও পাকিস্তান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও ‘আয়রন ব্রাদার্স’ বা ‘লৌহ ভ্রাতৃত্ব’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শিক মিলের চেয়ে ভারতবিরোধী কৌশলগত স্বার্থই এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান কারাকোরাম অঞ্চলের শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার বিতর্কিত এলাকা চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত অঞ্চলটিকে কাশ্মীরের অংশ দাবি করলেও ইসলামাবাদ মনে করেছিল, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা তাদের কৌশলগত স্বার্থে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পরে দুই দেশের সম্পর্ক সামরিক ও পারমাণবিক সহযোগিতায় আরও গভীর হয়। বিশ্লেষকদের দাবি, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতার জবাবে পাকিস্তানের কর্মসূচিতে চীন গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছিল, যদিও বেইজিং ও ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করে আসছে।
১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। তৎকালীন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন বেইজিং সফরের পথ তৈরি করেছিল ইসলামাবাদ।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পকে পাকিস্তানের অর্থনীতির ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হলেও, ঋণের বোঝা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্থানীয় অসন্তোষের কারণে এর সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বড় অংশই চীন থেকে আসে। সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতাও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে পারস্পরিক প্রয়োজন এবং ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখেছে।
